৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক, অধিকার পেতে ছেলের বাড়ির সামনে ধর্নায় কোচবিহারের যুবতী

UBG NEWS, মাথাভাঙ্গা, ২৩ ফেব্রুয়ারীঃ প্রায় ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক, এর পর মন্দিরে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রি বিয়ের আর্জি পেপারে সই। কিন্তু ছেলের বাবা রাজি না হওয়ায় ছেলে এখন সেই মেয়েকে ঘরে তুলতে নারাজ। দীর্ঘ টাল বাহানার পর স্বামীর অধিকার পেতে ছেলের বাড়িতে ধর্নায় যুবতী।

ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের জয়চাদপুর ভূটনির ঘাট গ্রামে।জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের বড়শৌল মারি গ্রামের প্রান্তিক গ্রাম বালাসুন্দর। এই গ্রামের যুবতী দুর্গা রায়ের সঙ্গে পারশবর্তী আলিপুর দুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের জয় চাঁদ পুর(ভূটনির ঘাট) গ্রামের মাধব বর্মনের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক বলে জানান ধর্নায় বসা যুবতী দুর্গা রায়।

দুর্গা রায় আরো জানায়, প্রায় দু বছর আগে তার পরিবার অন্য এক জায়গায় বিয়ে ঠিক করে। তখন তার প্রেমিক তার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মাকে গিয়ে বলে তার বিয়ে যেন অন্য জায়গায় বিয়ে না দেয় নইলে সে সুইসাইট করবে। সেই সময় দুর্গাও মাধব বর্মনকে বিয়ে করবে বলে জানিয়ে দেন। সেই মত সেই সময় মাধব বর্মন বাড়ির লোককে না জানিয়ে রেজিস্ট্রি করে ।

যদিও এক মাস পর যে মূল সার্টি ফিকেট পাওয়া যায় সেই সময় মাধব বাবু বাড়িতে না থাকায় সেটি আর গ্রহণ করা সম্ভব হয় নি বলে জানা যায়। এর পর মাধবের বাবা বিষয়টি জানতে পারলে সেই মেয়েকে ঘরে তুলবে না বলে জানিয়ে দেয় এবং মাধব বর্মনকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ দুর্গা সহ তার পরিবারের।

এরপর গ্রামের মানুষ এবং এলাকার প্রধান, পঞ্চায়েত নিয়ে গ্রাম্য সালিশি সভা ডাকা হলে মাধবের পরিবার সেই সভায় যোগ দেয় নি বলেও জানা যায়। এর পর মাধব বর্মন বাড়িতে এলে দুর্গা স্ত্রীর অধিকার নিয়ে মাধবের বাড়িতে যায়।

সে সময় মাধবের বাড়ির লোক জন ভয় দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে জানান দুর্গা। এর পর দুই পক্ষই মামলা করে। মামলার পরি প্রেক্ষিতেই মাধবের বাবা সুকুমার বর্মন এর জেল হয়। সেই সময় মাধব বাবু বাবাকে জেল থেকে ছারাতে আবার দুর্গা রায়ের সাথে ভাল ব্যবহার করে এবং কেস তুলে নিলে তার বাবা তাকে পুত্র বধূ হিসেবে মেনে নেবে বলে জানায়।

এমন কি কোর্টে যাতে জবান বন্দি দিতে জেতে না পারে ফিসলিয়ে অন্য এক বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখে। এর পর মাধবের বাবা জেল থেকে ছাড়া পেলে আবার তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেবে না বলে জানান মাধব। ইতি মধ্যে দুর্গার সাথে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে বলে জানান দুর্গা। এমতা বস্থায় দুর্গার রায় তার স্বামীর বাড়িতে ধর্নায় বসেছেন। দুর্গা রায় বলেন আমার স্বামীর বাড়ির লোক আমাকে গ্রহণ না করলে আমি এখানেই প্রাণ ত্যাগ করব।

অন্যদিকে মাধব বাবু বাড়িতে না থাকায় তার বাবা সুকুমার বর্মন বলেন, আমার ছেলের সাথে এই মেয়েটির কোন সম্পর্ক নেই ভয় দেখিয়ে জোর করে আমার ছেলেকে রেজেস্ট্রি কাগজে সই করে নিয়েছে। আমার ছেলে যখন ওই মেয়েটিকে মেনে নিচ্ছে না সেখানে আমি কি কোরতে পারি। আর বিষয়টি নিয়ে কোর্টে বিচার চলছে যা হবে কোর্টেই হবে। আমি এই মেয়েকে গ্রহণ করতে পারব না।

এবিষয়ে দুর্গা রায়ের মা জানান, আমরা গরিব মানুষ, দিনের পর দিন আমার মেয়েকে প্রতারনা করছে, আমরা গরিব বলে কি আমাদের বিচার হবে না। সকলের কাছে আমার মেয়ের সুবিচার চাইছি।