অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে কোচবিহারের তিন তৃণমূল বিধায়কের অনুপস্থিতি, জল্পনা তুঙ্গে

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : উত্তরবঙ্গের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে সোমবার শিলিগুড়িতে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। কিন্তু শিলিগুড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে কোচবিহারের তিন তৃণমূল বিধায়কের অনুপস্থিতি এখন ব্যাপক জল্পনা তৈরি করল।

সূত্রের খবর, সোমবার শিলিগুড়ি শহরের একটি হোটেলে বিভিন্ন জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে কোচবিহার জেলার নেতৃত্বকে ডেকে পাঠালেও অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় মিহির গোস্বামী, ফজলে করিম মিয়া এবং জগদীশ বর্মা বসুনিয়াকে। যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত তৃণমূলের শীর্ষস্তরের নেতা এই বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে কেন এই তৃণমূল বিধায়করা সেখানে অনুপস্থিত থাকলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।অনেকে বলছেন, সম্প্রতি কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস নতুন জেলা কমিটি গঠন হয়েছে। আর এই জেলা কমিটি গঠনের পরই প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করতে দেখা গেছে মিহির গোস্বামীর মত তৃণমূল বিধায়ককে। শুধু তাই নয়, ফজলে করিম মিয়া এবং জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার মত বিধায়ককেও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। আর এটা দেখেই একাংশের মনে ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অনেকে বলছেন, তাহলে কি এই সমস্ত তৃণমূল বিধায়করা প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করার সাথে সাথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে বুঝিয়ে দিলেন যে, তাদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছে! এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিভাবে লড়াই করবে শাসকদল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কোচবিহার জেলায় তৃনমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল নতুন কিছু নয়। নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পরেও এই কোন্দল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এবার যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত শীর্ষস্তরের নেতার ডাকা বৈঠকে কোচবিহার জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা অনুপস্থিত থাকলেন, তাতে নিঃসন্দেহে বিড়ম্বনা বাড়ছে।

 কেন এই তৃণমূল বিধায়করা অনুপস্থিত থাকলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃনমূলের চেয়ারম্যান বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য জগদীশবাবু পাটনা গিয়েছেন।তাই তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। মিটিংয়ের ব্যাপারে মিহিরবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফজলে করিম সাহেব কেন আসেননি আমার জানা নেই। আর উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী অসুস্থ। চিকিৎসক তাকে এক মাস হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে অভিষেকবাবুর নির্দেশে আগামী ১৮ অক্টোবর জেলার সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসব।” সব মিলিয়ে এবার গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।