কেঁচো খুঁড়তে বেড়িয়ে এল কেউটে, গ্রেফতার ৫ দুষ্কৃতি

ইউবিজি নিউজ, ব্যুরো রিপোর্ট : অবশেষে স্বস্তি মিলল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের। কেঁচো খুড়তে বেড়িয়ে এল কেউটে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার সাদা পোশাকের পুলিশের অভিযানে শনিবার রাতে গ্রেফতার হয় ৫ জন দুষ্কৃতী।

বেশ কিছুদিন যাবৎ শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক এটিএমে দুষ্কৃতী হানার পর থেকেই অনেকটাই সতর্ক শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানার পুলিশ কর্মীরা। প্রতিদিন রাতেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানা সহ প্রতিটি থানার পুলিশ বাহিনী প্রতিটি এলাকায় রাতে টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে রাত ১২ টা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানার পুলিশ কর্মীরাই কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন শহরের অলিগলিতে।

বিগত এক মাসে শিলিগুড়ি শহরে দশটিরও বেশি এটিএমে দুষ্কৃতী হানার পর থেকেই এই রুটিন পেট্রোলিং শুরু করেছিল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার রাতে এমনই নাইট পেট্রোলিং চলাকালীন একটি বড় সর সাফল্য পায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী ও মিলন পল্লী আউটপোস্ট এর পুলিশকর্মীরা।

শনিবার রাতে নাইট পেট্রোলিং করার সময় গজলডোবার কাছে তিস্তা ব্যারেজ এর পাশে একটি স্টিল কালারের বোলেরো দেখে সন্দেহ হয় নিউ জলপাইগুড়ি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী ও মিলন পল্লী আউটপোস্ট এর পুলিশকর্মীদের। এরপর নিউ জলপাইগুড়ি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনীর গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা ও মিলন পল্লী আউটপোস্ট এর পুলিশকর্মীরা ওই বোলেরো গাড়ির টিকে ঘিরে ধরে। গাড়িতে থাকা যুবকদের দেখে সন্দেহ হয় নিউ জলপাইগুড়ি থানার ও মিলন পল্লী আউটপোস্ট এর পুলিশের। এরপর ওই যুবকদের দেহ তল্লাশি এবং গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রচুর গাঁজা এবং বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্র ও যন্ত্রপাতি। ধৃত গৌতম মালি, রাজেন সরকার, খোকন অধিকারী, সুব্রত দেব, ভজন দাসদের বাড়ি ফাঁসিদেওয়া, ইসলামপুর, শিলিগুড়ি, ভক্তিনগর ও ফকদই বাড়ি এলাকাতে।

অভিযুক্ত ভজন মাছ বিক্রেতা, সুব্রত মাস্ক বিক্রেতা, খোকন প্লেসমেন্ট এর কাজে যুক্ত, অভিযুক্ত গৌতম মালি কুখ্যাত অপরাধী এর আগেও বেশ কয়েকটি দুষ্কৃতী কান্ডর সাথে যুক্ত থাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে, রাজেন সরকারের বাড়ি ফাঁসিদেওয়ায় এর আগে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছিল রাজেন, বিভিন্ন দুষ্কৃতী মূলক কার্যকলাপের অভিযোগে।

অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে শনিবার রাতে উদ্ধার হয় প্রায় ৫৩ কেজি গাঁজা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় কথা বাত্রায় বেশ কিছু অসঙ্গতি পান নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ কর্মীরা। দুষ্কৃতীদের কথা বাত্রায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মীরা তখনই অনুমান করেন দুষ্কৃতী দলটি গাঁজা পাচার ছাড়াও অন্যান্য অপরাধের সাথে যুক্ত রয়েছে। আর সেই কারণেই এই অভিযুক্ত দলকে রবিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠিয়ে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে চাওয়া হয়।

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু জিনিসপত্র দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল, আর সেই কারণেই তাদেরকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে এসে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। পুলিশের নানান প্রশ্নের খোঁচায় বেরিয়ে আসে শিলিগুড়ির এটিএম কাণ্ডের একের পর এক তথ্য।

মাস্ক ও মাছ বিক্রি থেকে এটিএম এর মেশিন খুলে টাকা বের করার চক্রে? আবার কেউ প্লেসমেন্ট এজেন্সি থেকে এতো বড় অপরাধের কাজে? তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা হকচকিয়ে যায় তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে। একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। অবশেষে পর্দা ফাঁস। তদন্তকারী অফিসারদের প্রশ্নের বানে অবশেষে দুষ্কৃতীরা স্বীকার করে গত এক মাসে শিলিগুড়ি শহরে চলা একের পর এক এটিএম এ টাকা লুট এবং টাকা লুটের চেষ্টার ঘটনা ঘটিয়েছে তারাই। এরপর নিউ জলপাইগুড়ি থানার তদন্তকারী অফিসারেরা অভিযুক্তদের নিয়ে একের পর এক এটিএমে যান এবং তারা কিভাবে অপারেশন চালায় তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

জেরায় দুষ্কৃতীরা শিকার করে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে তারা অপারেশন চালাতো। এই চক্রে আরো বেশ কয়েকজন রয়েছে বলেই অনুমান শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তকারী অফিসারদের। আর সেই কারণে ধৃতদের কে আবারো দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের প্রত্যেককে আদালতের দরবারে হাজির করতে চাইছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।

দিনের বেলায় কেউ মাস্ক,কেউ মাছ বা কেউ প্লেসমেন্ট এজেন্সির কাজ করলেও রাতের অন্ধকারে এই দুষ্কৃতী চক্র গাঁজা পাচার এবং এটিএম লুটের ঘটনায় জড়িত ছিল বলেই জানিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।