২০২১ বিধানসভা নির্বাচন, কারো স্লোগান খেলা হবে, কেউ বলছেন খেলা হলে ধোলাই হবে….. কিন্তু সাধারণ মানুষ কি বলছেন?

কোচবিহার : খেলা হবে শ্লোগান নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, তার সাথে আবার জোড়া লেগেছে বাংলা নিজের মেয়েকে চায়। অপরদিকে স্লোগান খেলা হলে ধোলাই হবে, সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে উঠেছে নির্মমতার ভিডিওতে।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু। নিজেদের মতো করে প্রচারে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। কারও হাতিয়ার উন্নয়ন, কারও হাতিয়ার দুর্নীতি অথচ ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। কি ভাবছেন তারা…..

রাজেশ বসাক, ছোট্ট একটি পানির দোকানের মালিক।তা স্পষ্ট কথায় ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনের স্মৃতি যেন পুনরায় ফিরে না আসে। অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। রক্ত ক্ষয় মারামারি বোমাবাজি গুলি ছাড়া যেন এই বছরের নির্বাচনটা হয়।

দিলীপ কুন্ডু, কোচবিহারের একজন সংবাদপত্র বিক্রেতা। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমিতো কোন সুযোগ সুবিধাই পেলাম না। আমার কোন কার্ড নেই, দুয়ারে সরকারে কার্ড বানাতে গিয়েছিলাম এখনো পর্যন্ত কিছু হয়নি।

রিঙ্কু বর্মন, একজন সাধারণ গৃহবধু। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার উভয় কর্মসংস্থান প্রদান করতে অসমর্থ হয়েছে। আমরা দু টাকা কেজি চাল চাইনা, আমরা রোজগার করে ৫০ টাকা কেজি চাল কিনে খেতে চাই। সরকার অন্তত এই দিকটায় নজর দেক।

কবিতা বর্মন দেবনাথ, তিনিও একজন গৃহবধূ। বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। বেসরকারি শিক্ষক মান বেশি সেই সাথে তার দাম বেশি।সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা মতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে পারেন। তাহলে সাধারন ছেলে মেয়েরা উন্নত এবং আধুনিক শিক্ষার সুবিধা পাবেন। লকডাউন এর কারণে প্রায় একবছর শিক্ষা পিছিয়ে গেছে, অবিলম্বে সেই দিকে নজর দেওয়া উচিত। তিনি দুঃখ করে বলেন, আমাদের কথা কেউ ভাবেনা।সরকারি না হোক অন্তত পক্ষে কল কারখানা তৈরি করে বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক সরকার।

নিজের ছেলেকে নিয়ে সাগরদিঘির পারে এসেছিলেন আর একজন গৃহবধূ দীপিকা বর্মন। তার ক্ষোভ অন্য জায়গায়। তিনি বলেন, ১ কেজি সরষের তেলের দাম ১৪৫ টাকা, রান্নার গ্যাস ৯০০ টাকা কিছু কম। মসলাপাতির দাম আকাশছোঁয়া, আমরা সংসার চালাবো কিভাবে। ভোট নিয়ে মেতে আছে নেতা-নেত্রী মন্ত্রী আমলা আধিকারিকরা সবাই, সাধারণ মানুষের পেটে ভাত নেই, রেশন থেকে চাল পাওয়া গেলেও চাল সিদ্ধ করার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন, একজন দরিদ্র সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে এইভাবে সংসার চালানো অসম্ভব।তাই সরকার যেই গঠন করুক দ্রব্যমূল্যের প্রতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থানের প্রতি জোর দিক।

ভোটের রাজনীতির নাকি রাজনীতির ভোট?সাধারণ মানুষের অবস্থান কিন্তু সেই জায়গাতেই রয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বলছেন দুই কোটি কর্মসংস্থান বছরে, বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্য সরকার বলছেন শিল্পর কথা, কিন্তু সেখানেও ছবিটা কোথাও যেন সাদা ক্যানভাস। সবমিলিয়ে কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে সাধারন মানুষ, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে যতই খেলা হোক না কেন অবশ্যই সাধারণমানুষ দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন না, এটাই স্পষ্ট।।