স্বামীকে ফিরে পেতে নিজের শ্বশুর বাড়িতেই ধর্নায় বসলেন গৃহবধূ

UBG NEWS, কোচবিহার : বিয়ের দাবিতে নয়, এবার বিয়ে করা বরকে ফিরে পেতে শ্বশুরবাড়িতে ধর্নায় বসলে এক যুবতী। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলছে তার ধর্না, এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা টাকাগাছ এলাকাজুড়ে।

জানা গিয়েছে, কোচবিহার দু নম্বর ব্লকের পুন্ডিবাড়ি থানার অন্তর্গত টাকা অঞ্চলে র স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ধর্নায় বসে সাবানা পারভিন। তার দাবি গত দুমাস আগে আইনি মতে বিবাহ হয় তাদের,এই মর্মে একটি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেখায় শাবানা। দুমাস পরে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে চলে আসে তার স্বামী আলী হোসেন। আর দেখা নেই। শেষমেষ শ্বশুর বাড়িতেই স্বামীকে ফিরে পেতে ধর্নায় বসেন যুবতী। ঘটনার বিবরণ শুনে সাবানা পারভিন এর পাশে এসে দাঁড়ায় এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল হক বলেন, প্রায় দু’মাস আগে শাবানা ও আলী হোসেনের বিয়ে হয়। বিতর্ক ছিল শাবানার সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল আলী হোসেনের কিন্তু পরবর্তীতে আলি হোসেন স্বীকার করে নেন নিজের ইচ্ছাতেই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। দু মাস পরের থেকে সংসার শুরু হবে এই শর্তে শাবানা পারভীনের কামিনীর ঘাটের বাপের বাড়িতে রেখে আছে আলী। দু মাস কেটে যাওয়ার পরেও যখন স্বামীর দেখা পাননি তখন টাকাগাছ স্থিত স্বামীর বাড়িতেই ধরনায় বসে যুবতী। আলী হোসেনের মা আলেয়া বিবি অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে কলেজে যাওয়ার রাস্তায় অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে শাবানার সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই ছেলের কোন খোঁজ পাচ্ছে না তারা। যদিও বা স্থানীয় পুন্ডিবাড়ি থানায় ছেলের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত কোনো রকম অভিযোগ দায়ের করেননি পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, কুরবানীর ঈদের দিনও ছেলে বাড়িতে ছিল তাকে এলাকায় দেখা গেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ শাবানাকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় আলী হোসেনের মা আলেয়া বিবি। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন পুনরায় শাবানাকে বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয় তারপরে আবারও রাত দুটো নাগাদ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শেষ পাওয়া খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা শাবানা পারভীনের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় পুন্ডিবাড়ি থানায় যোগাযোগ করেছেন।