Ad
আলিপুরদুয়ারউত্তরবঙ্গ

সন্তান প্রসব করতে কাঁধে করে পাহাড় থেকে সমতলে নিয়ে আসা হল আলিপুরদুয়ারের মেয়ে কে

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

UBG NEWS, আলিপুরদুয়ার : কোথাও চড়াই,কোথাও উতরাই,মাঝে মাঝে ধসের জন্য পথটা রীতিমতো বিপজ্জনক। তবু ওই পথে নামতে হবে। হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। কাঁধের ওপর বাঁশের মাচায় শুয়ে কাতরাচ্ছে মেয়েটা। খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারলে পরিণতি কী হবে তা বুঝতে পারছেন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি তাঁরা। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। চার ঘণ্টা উৎরাইয়ের পথে নেমে তাঁরা বছর ৩০-এর ডেমকান ডুকপাকে পৌঁছে দিলেন লতাবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে সেখানে শিশুর স্বাভাবিক প্রসব করেন সেই মহিলা।

Ad

নবজাতকের ওজন হয় ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম। ৩০ বছরের দেমকান দুকপা ও তাঁর সন্তান দু’জনেই এখন সুস্থ। এই ঘটনায় খুশিতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি পোস্ট করেন আলিপুরদুয়ার জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ সুবর্ণ গোস্বামী। আর বক্সা পাহাড় চূড়ার আদমা গ্রাম থেকে গর্ভবতী মাকে কাধে বয়ে নামিয়ে আনার সেই ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

আলিপুরদুয়ার জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ সুবর্ণ গোস্বামি বলেন, “ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা স্বাস্থ্য দপ্তরের সাহায্যে বক্সা পাহাড়ে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার কাজ করে। তাদের প্রচেষ্টাতেই এই গর্ভবতী মাকে প্রত্যন্ত গ্রাম আদমা থেকে সমতলের হাসপাতালে নামানো সম্ভব হয়েছে। তাদের আমি কুর্নিশ জানাচ্ছি। প্রত্যন্ত এলাকার জন্য সেই সব এলাকা থেকে মায়েরা হাসপাতালে এসে প্রসব করাতে চান না। এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানিক প্রসবে অন্যতম মাত্রা যোগ করল।”

উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকে ভুটান সীমান্তে বক্সা পাহাড় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬০০ ফুট উঁচুতে বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ টি গ্রাম রয়েছে। বক্সা পাহাড়ের নিচে সান্তালাবাড়ি থেকে ওপরের রাস্তায় কোনও যানবাহন যায় না। ফলে সেখানে পৌছানোর একমাত্র উপায় পায়ে হেটে পাহাড় ডিঙিয়ে চলা। আদমা বক্সা পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় অবস্থিত। ফলে এই দুর্গম এলাকা থেকে মহিলাকে প্রতিষ্ঠানিক প্রসব করানোয় এখন প্রশংসা কুড়োচ্ছে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া নামে সংস্থাটি।

এই সংস্থার কালচিনি ব্রাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার তুষার চক্রবর্তী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন থেকে বক্সা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় এই কাজ করছি। আমরা চাইছি বক্সা পাহাড়ে ১০০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক ডেলিভারি। এখানকার সকল মায়েরা যাতে হাসপাতালে এসে প্রসব করেন। এছাড়া এই গ্রামের সব শিশুদের টিকাকরণের আওতায় আনা আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের কাজ করছি। এই মা যিনি ৪ ঘণ্টা এভাবে কাধে চেপে হাসপাতালে এসে নর্মালভাবে শিশুর জন্ম দিয়েছেন তার সাহসিকতাকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারছি না।”

আরও পড়ুন