Ad
মালদারাজনীতি

ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে একাধিকবার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ দুই উপভোক্তা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

মালদা, ১৩ সেপ্টেম্বর: কাটমানি নেওয়ার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই দুমাসের মধ্যে আবারও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা আরাধনা পোদ্দারের স্বামী অলোক পোদ্দারের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন আলোক পোদ্দার।

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের হোসেনপুর বুথের সদস্যা আরাধনা পোদ্দারের স্বামী অলোক পোদ্দার বেনিফিশিয়ারিদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন।

Ad

প্রশাসনের কাছে এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন দুই উপভোক্তা। তাদের অভিযোগ, ৩০ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়ার পরও তারা মাত্র দুই কিস্তির টাকা পেয়েছেন। কিন্তু তৃতীয় কিস্তির টাকা না মেলায় তারা ঘর সম্পূর্ণ করতে পারছেন না।

 তৃতীয় কিস্তির টাকা পেতে আবারও তাদের কাছে কাটমানি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। কাটমানি না দিলে তারা তৃতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না বলে, তাদের হুমকি দেওয়ায় তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত মাস দুয়েক আগেও আরাধনা পোদ্দারের স্বামী অলোক পোদ্দারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই গ্রামের এক উপভোক্তা সেহেনা বিবি।

তারপর তার বিরুদ্ধে ফের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ জানালেন ওই বুথেরই দুই উপভোক্তা আরিফুল ইসলাম ও গুনো শর্মা। অভিযোগকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি সরাসরি অলোক পোদ্দারের হাতেই ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

 টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যাবে না বলে তাকে হুমকি দেওয়া হতো। গরীব দিনমজুর তিনি। তাই ঘর তৈরির টাকাটা যাতে পাওয়া যায়, তার জন্য প্রশাসনের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন আরিফুল ইসলাম।

আরেক অভিযোগকারী গুনো শর্মাও ওই একই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন,তাদের দুরাবস্থার সুযোগ নিয়ে হুমকি দিয়েছেন অলোক পোদ্দার। তিনিও তার টাকা ফেরত চান বলে জানিয়েছেন গুনো শর্মা।

অভিযোগকারী উপভোক্তারাও তৃণমূলের সমর্থক হওয়ায়, গরীব মানুষদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকার অধিকাংশ তৃণমূলের নেতা-কর্মী। এতে দলের বদনাম হচ্ছে বলেও সরব হয়েছেন তারা।

এলাকার দাপুটে সিপিএম নেতা অলোক পোদ্দার গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেই শাসকদলে যোগ দেন। তার স্ত্রী সিপিএম থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি ও তার স্ত্রী শাসকদলে যোগ দেন। কিন্তু তিনি এলাকার তৃণমূল কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে সিপিএমকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে।

এলাকায় তার এমনই দাপট যে, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না বলে অভিযোগ। এলাকার আদি তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, এলাকার বহু মানুষের কাছে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন অলোক পোদ্দার।

সাহস করে সেহেনা বিবি অভিযোগ জানানোয় তার স্বামীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। প্রতিবাদ করায় এলাকার কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকেও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

 তারপরেও সাহসে ভর করে ফের অভিযোগ জানিয়েছেন দুই উপভোক্তা। এবার তাদেরও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার আদি তৃণমূল কর্মীরা।

স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার অভিযোগ, অলোক পোদ্দারের এক পা শাসকদলে আর এক পা রয়েছে বিজেপিতে। শাসকদলের নেতাদের একাংশের ছত্রছায়ায় থেকে যা খুশি তাই করছেন অলোক পোদ্দার।

মুখ্যমন্ত্রী, জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুর কাটমানি না নেওয়ার বিষয়ে ও দুর্নীতি বন্ধে বারবার বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্থ কিছু নেতার জন্য দলের বদনাম হচ্ছে মনে করছেন এই তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর কুশিদা অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ চঞ্চল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ চাইছে দলের ছবি খারাপ করতে।

এরা চাইছে একুশের ভোটে তৃণমূল হেরে যাক। কিন্তু ব্লক নেতৃত্বরা সব জেনেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কারণ তারাও এই কাটমানির কমিশন পাচ্ছেন।”

এদিকে বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও কেন প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না সেই অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূলের একাংশের পাশাপাশি বিরোধীরাও। প্রশাসন সক্রিয় না হওয়ায় দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের দাপট বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলনে,”আমরা বহুবার বলেছি সরকারি কোন প্রকল্পের জন্য কেউ টাকা চাইলে যাতে না দেওয়া হয়। আর কেউ এরকম করে থাকলে তার নামে যেন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির মালদা জেলা সম্পাদক কিষাণ কেডিয়া তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন,”গোটা তৃণমূল দলটাই কাটমানিতে পরিণত হয়েছে। উঁচুতলা থেকে নিচু তলা পুরোটাই দুর্নীতিগ্রস্ত।

আমরা কাটমানি নিয়ে কিছুদিন আগে মহকুমা শাসকের কাছে একটি ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কোনো ফল হচ্ছে না। কারণ কাটমানির ভাগ প্রত্যেকেই পাচ্ছে।”

আরও পড়ুন