Ad
কলকাতাঘাটালজলপাইগুড়িদক্ষিণ দিনাজপুরদক্ষিণ বঙ্গ

আগামী ১৫ দিন রাজ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে! সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

UBG NEWS: কোভিড বাংলায় সামনে এল মুখ্যমন্ত্রীর ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা। কারন তা বাংলাকে ঘিরে, বাংলার মানুষকে ঘিরে। রাজ্যে বাড়তে থাকা কোভিডের সংক্রমণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে রীতিমত উদ্বিগ্ন সেটা এদিন আবারও বোঝা গেল মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। সেই সঙ্গে এটাও বোঝা গেল রাজ্যজুড়ে চলা আংশিক লকডাউনের মধ্যেও যাতে সমাজের প্রান্তিক শ্রেনীর মানুষের রুটি রুজি বন্ধ না হয় সেই দিকটি তিনি বিশেষ ভাবে দেখছেন আর সেই প্রসঙ্গেই শুনিয়েছেন অভয়বাণী। জানিয়েছেন, ‘বিনামূল্যে যাতে সবাই রেশন পায় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের দেখতে বলেছি।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন নিয়ে বাড়তি কোনও শব্দ খরচ করেননি। আর তার জেরেই মনে করা হচ্ছে বাংলার অবস্থা খুব খুব খারাপ না হলে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের পথে হাঁটতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। তাই এখনই সব কিছুর ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

Ad

বুধবার রাতে রাজ্য সরকার যে কোভিড রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে গত ২৪ ঘন্টায় বাংলায় নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ১০২জন। মারা গিয়েছেন ১০৩জন। রাজ্যে সক্রিয় কোভিড কেস রয়েছে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮৭২। খাস কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৩জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ হাজার ৯৮২জন। আবার হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলায় দৈনিক সংক্রমণ হাজার না ছুঁলেও কার্যত হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। আবার স্ক্রিয় কোভিড কেস ধরলে কলকাতায় ২৬ হাজারেরও বেশি ও উত্তর ২৪ পরগনায় ২৩ হাজারেও বেশি কেস রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ২৫জন কলকাতার আর ২৭জন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার। এই যখন অবস্থা তখন এদিন নবান্নে খোদ মুখ্যমন্তড়ী শুনিয়ে দিলেন সতর্কবার্তা।

সাফ জানালেন, ‘আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ভয় দেখাচ্ছি না, সবাইকে সতর্ক করছি। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে আমার একটাই আর্জি, বাসে দয়া করে ভিড় করবেন না। একটু হয়তো বাড়তি অপেক্ষা করতে হবে। লোকাল ট্রেন বাতিলের ফলে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়বেন জানি, তাই রাজ্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। বিনামূল্যে যাতে সবাই রেশন পায় সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের দেখতে বলেছি।’

এর পাশাপাশি এদিন রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের বিভিন্ন বণিকসভাকে এগিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতবারের মতো রাজ্যের বিভিন্ন বাজারের দায়িত্ব তাঁদেরকে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এমনিতেই রাজ্যে ৫০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে জনমানসে পরিস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রসারের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে কোনও এলাকায় যাতে ভিড় না হয় সেটা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলোকে এগিয়ে আসার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী।

একই সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী এটাও জানান যে, এদিন থেকেই রাজ্যের সব কোভিড নার্সিংহোম ও হাসপাতালে ৪০ শতাংশ বেড় বাড়াতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন