রণকৌশল স্থির করতে দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক মমতার

কলকাতা: লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এখন রাষ্ট্রপতি সিলমোহর দিলেই তৈরি হবে নতুন আইন।

যদিও অনেক বিতর্ক রয়েছে নতুন বিল নিয়ে। সংসদের দুই কক্ষেই একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল প্রবল বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রের আনা ওই বিলের। তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

বিরোধিতা থাকলেও লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। অচিরেই যা পরিণত হবে আইনে। আর এই নতুন আইনের উপরে ভিত্তি করেই নাগরিকপঞ্জি চালু করার দাবি করেছে বিজেপি। যা সমগ্র দেশের উপরেই প্রযোজ্য হবে।

এই অবস্থায় নতুন রণকৌশল স্থির করতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জন্য দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইছেন মমতা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মানুষের মতামত জানতে আগ্রহী নেত্রী মমতা। তার উপরে ভিত্তি করেই রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের নতুন রূপরেখা স্থির করতে যান তৃণমূলনেত্রী।

সেই লক্ষ্য নিয়েই দলের নেতাদের থেকে নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে রাজ্যবাসীর মনের কথা জানতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করতে চান তিনি। চলতি মাসের আগামী ২০ তারিখে দলের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। সেই বৈঠকের উপরে ভিত্তি করেই আগামী দিনের জন্য রণকৌশল সাজাতে চান তিনি।

নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে তৃণমূল। যা নিয়ে গত বছর দুই বছর সময়ের মধ্যে একাধিকবার সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে নেত্রী মমতাকে। কলকাতার রাস্তায় মিছিলেও হেঁটেছেন তিনি নাগরিকপঞ্জির প্রতিবাদে। সপ্তাহ খানেক আগেই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে বাংলায় কিছুতেই নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু হতে দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

বুধবার রাজ্যসভায় বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরেও দলের সেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সাংসদ তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ওব্রায়েন। তিনি বলেন, “এই সরকার(কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকার) শুরু বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই ব্যর্থ হয়। মমতা দিদি বলে দিয়েছেন যে নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কখনই বাংলার মাটিতে প্রযোজ্য হবে না।”