“পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন সম্পর্কে কিছু জানেনই না, প্রশাসন সম্পর্কে মমতাজীর কোনও ধারণাই নেই”: জেপি নাড্ডা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে গিয়েছে, বললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ( J P Nadda)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবারে বৃহস্পতিবার দিনভর নানা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল নাড্ডার। কিন্তু তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকায় নাড্ডার সফর মসৃণ হয়নি। দফায় দফায় হামলা হয় তাঁর কনভয়ে। অনেকগুলি গাড়িতে ভাঙচুর হয়। কর্মসূচি কিছুটা অসমাপ্ত রেখেই কলকাতা ফেরেন নাড্ডা। তারপরই গোটা রাজ্য নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সেখান থেকেই এদিনের তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

“পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন সম্পর্কে কিছু জানেনই না। প্রশাসন সম্পর্কে মমতাজীর কোনও ধারণাই নেই।” নাড্ডা এদিন এই ভাষাতেই তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মমতা আগেই মুখ খুলেছিলেন। বিজেপি নেতারা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন, তখন পুলিসকে দোষ দিয়ে লাভ কী? মমতা এই ধরনের প্রশ্নই তুলেছিলেন। তার জবাব দিতে গিয়েই নাড্ডা একথা বলেন।

বিজেপির সভাপতি এদিন বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা চরম সীমায় পৌঁছেছে। প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই।” এতেই থামেননি বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেছেন, তাঁর সম্পর্কে যে সব শব্দ মমতা ব্যবহার করেছেন, সেসব উচ্চারণ করতে তাঁর রুচিতে বাধে। নাড্ডার কথায়, “মমতাদি আপনি আজ আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটা আপনার সংস্কৃতির পরিচয় দিচ্ছে। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়, এটা মমতাদির নিজের সংস্কৃতি। ”

বিজেপি সভাপতি এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আজকের তারিখেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি টেনে নাড্ডা বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শীর। কিন্তু মমতাদির রাজত্বে বাংলার মাথা আর উঁচু নেই, তিনি বাংলার মাথা নিচু করে দিয়েছেন।” স্বামী বিবেকানন্দকে বারবার মমতা উদ্ধৃত করলেও আসলে তিনি স্বামীজীর সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও নাড্ডা এদিন কটাক্ষ করেন।

তবে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তোলার কথা বিজেপি ভাবছে না বলেও নাড্ডা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রজাতান্ত্রিক উপায়েই এই সরকারের পতন বিজেপি ঘটাবে।” কিন্তু বিজেপি যখন মনে করছে এই রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা একেবারেই নেই, প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, তখন সেই সরকারকে চলতে দেওয়া কি গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল? নাকি বিজেপির অবস্থানে আসলে দ্বিধা ধরা পড়ছে?”

টিভি নাইন বাংলার এই প্রশ্নের উত্তরে নাড্ডা বলেন, “আমরা চাই মানুষকে বোঝাতে, বুঝিয়ে আমাদের সঙ্গে নিতে। তাই আমরা আত্মবিশ্বাসী যে মানুষকে বুঝিয়েই আমরা এই সরকারের পতন ঘটাতে পারব।”

বিজেপি সভাপতি আরও বলেন যে, “আরে আমরা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে লড়াই করে হারিয়ে দিয়েছিলাম, ইনি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” ডায়মন্ডহারবারে এদিন যা ঘটেছে, সেসব করে বিজেপিকে রোখা যাবে না বলে নাড্ডা দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমি ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছি। এসব আমি দেখে এসেছি। এসব করে আমাকে আটকাতে পারবেন না।”