কোচবিহারজলপাইগুড়ি

মেয়ের মুখ দেখা আর হল না ময়নাগুড়ি ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত সুভাষ রায়ের

কোচবিহার: সুপ্রিয়ার মতোই তার বাবার ও ইচ্চা ছিলো মেয়ে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করবে। কিন্তু ভাঙের নিষ্ঠুর পরিহাসে দুজনের স্বপ্ন যেন স্বপ্ন-ই থেকে গেলো।

মাস তিনেক আগে মেয়ে হয়েছে। প্রতিদিন মেয়ের আওয়াজ কান্না টেলিফোনে শুনছেন বাবা সুভাষ। মেয়েকে দেখতে রাজস্থানের জয়পুর থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন কোচবিহার ১ নং ব্লকের ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়ানবস গ্রামের সুভাষ রায়। কিন্তু মেয়েকে দেখা আর হল না। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাগুড়ির কাছে যে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা সেই বিকানির এক্সপ্রেসে ছিলেন অন্যান্য দের মত সুভাষ রায়ও।

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সেই খবর রাতেই মৃত সুভাষ রায়ের বাড়িতে পৌছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। শুধু পরিবার নয় গোটা গ্রাম ভেঙে পড়েছে। মেয়ের নাম সুপ্রিয়া রায়, এছাড়াও তার দুই ছেলে রয়েছে শুভরায়, সূরজ রায়। স্ত্রী টুম্পা রায় বলেন, দুই ছেলের সময় ও মেয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল সুভাষের। দাদা সুবল রায় জানান, মেয়ের জন্মের সময় সুভাষ এখানে ছিলো না। মেয়ে কে দেখতেই বাড়ি ফিরছিল সে।

রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে চান্দামারির যুবক চিরঞ্জীত বর্মনের। মাস ছয়েক আগে গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়ে। অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু পয়সা নেই তাই মাস তিনেক আগে জয়পুরে রওনা দিয়েছিলেন টাকা জোগারের উদ্দেশ্যে। অপারেশনের টাকা জোগাড় হয়ে গিয়েছিলো। অপারেশন করাবে বলে বিকানির এক্সপ্রেস চেপে তিনি কোচবিহারের চান্দামারীর বাড়িতে ফিরছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের সেই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় চিরঞ্জিতেরও। বৃহস্পতিবার রাতেই সেই খবর চিরঞ্জীতের বাড়িতে পোছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে চান্দামারী গ্রামে। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানি রাজ বলেন, ময়নাগুড়িতে রেল দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে দুজন কোচবিহারের বাসিন্দা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের মৃতদেহ জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Ad

এদিন জলপাইগুড়ি মর্গে গিয়ে কোচবিহার থেকে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত পরিবারদের পাশে থেকে সাহায্য করেন কোচবিহারের তৃনমূল শ্রমিক মজদুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খোকন মিয়াঁ। তিনি টেলিফোনে বলেন, “মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলাম না। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের চিরঞ্জিত ও সুভাস রায় ছাড়াও মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের রঞ্জিত বর্মণ এবং কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের সম্রাট কার্জির দেহ মর্গ থেকে নিয়ে রওনা হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার দিকেই সকলের দেহ বাড়ি পৌঁছে যাবে বলে মনে করছি।”

গতকাল বিকেল ৫ টা নাগাদ গৌহাটিগামী বিকানির এক্সপ্রেস ময়নাগুড়ির দোমহনি স্টেশনের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৬ জন। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে ২৩ জনকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এবং ৬ জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য যাত্রীদের পৌছাতে রাজ্য সরকার এবং রেল কর্তৃপক্ষ তৎপরতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সহ রেল উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক করতেও তৎপরতার সাথে কাজ শুরু হয়েছে বলে রেল দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]