৭ ম্যাচে ৫ হার,বদলে ফেলা হবে কেকেআর দল! গতকালের হারের পরেই হুঁশিয়ারি কোচ ম্যাককালামের

ইউবিজি নিউজঃ  ৭ ম্যাচে ৫ হার। কেকেআরের এই হারের পিছনে আসল কারণ কী? অভিযোগের কেন্দ্রে নাইটদের ওপেনিং পার্টনারশিপ। শুভমান গিল এবং নীতিশ রানা- চলতি টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত দলকে ভালো শুরু উপহার দিতে ব্যর্থ। আর দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে হারের পরেই নিশানায় নাইটদের দুই ওপেনার।

কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ম্যাচের পরেই ক্ষোভ উগরে দিলেন। জানিয়ে দিলেন, টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা বল নষ্ট করায় মিডল এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা চাপে পড়ে যাচ্ছেন। “আক্রমণাত্মক খেলার জন্য দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রিকেটাররা সবসময় স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং আনুগত্য দাবি করেন। দলের ছেলেদের কাছ থেকে আমি, ক্যাপ্টেন মর্গ্যান এটাই চেয়ে এসেছি। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা ছেলেদের কাছ থেকে সেটা মোটেও পাচ্ছি না।” বলে দেন তিনি।

কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ ঘটান পৃথ্বী শ। এক ওভারে ছয় বাউন্ডারি হাঁকানোর নজিরও গড়েন তিনি। ম্যাককুলাম দিল্লির তরুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, “পৃথ্বী শ যেভাবে খেলল, আমরা ঠিক সেই ভাবেই খেলতে চাই। প্রত্যেক বলেই চার-ছক্কা হাঁকানো সম্ভব নয়। তবে সেই ইচ্ছা থাকা দরকার। বিশেষ করে যখন আক্রমণাত্মক খেলার লাইসেন্স থাকে। শট না খেলে রান তুললে মুশকিল হয়ে যায়। আমাদের ঠিক সেটাই হয়েছে। আমাদের কিছু অদল বদল করতে হবে। কিছু নতুন মুখ আনবো, যারা প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে পারবে।”

আহমেদাবাদের স্লো পিচে রান তোলা মোটেই সহজ নয়। এমন পিচে ম্যাককালামের টোটকা, নতুন বলে যত সম্ভব রান তুলে না-ও। “নতুন বলের ফায়দা নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ডিং বিধিনিসেধের সুবিধা নিতে হবে। ছেলেদের এটাই মাথায় ঢুকিয়ে নিতে হবে যে এটা টি২০ ক্রিকেট। লুজ বল পেলে কখন বাউন্ডারি হাঁকাবো- এই ভাবনা চিন্তাটাই দূর করে দিতে হবে। একটা বাউন্ডারি হাঁকানোর পর আর একটা, তারপর আরেকটা- এই মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আগ্রাসী হতে হবে। শুরু থেকেই চড়াও হলে, বোলাররা চাপে পড়ে যায়। আর চাপের মুখে বলের লাইন লেন্থটাই গুলিয়ে ফেলে। তারপর একটা বড় ওভার, বড় ইনিংস এবং স্কোরবোর্ডে বড় রান- এমনটাই হয়ে থাকে।”

প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক আরো বলেছেন, “বাউন্ডারি না হাঁকালে চাপে পড়তে হয় ব্যাটসম্যানকে। সেটাই হচ্ছে আমাদের ক্ষেত্রে। ছেলেদের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলার বলেছি বারবার। তারপরেও এই ঘটনা রীতিমত হতাশার। আমরা ধারাবাহিকভাবে আমরা এটা করতে ব্যর্থ হচ্ছি। তাই আমাদের একাদশে যে বেশ কিছু পরিবর্তন হবে, তা নিশ্চিত।”

কেকেআর আপাতত সময়ের সঙ্গেও পাল্লা দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের নীচে পৌঁছে যাওয়া নাইটরা বাকি সবকটা ম্যাচ জিতে প্লে অফে খেলা পাকা করতে পারে কিনা, সেটাই দেখার।