আন্তর্জাতিক

জল অন্যদিকে গরানোর চেষ্টা ! বাংলাদেশের কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণের চেষ্টা

বাংলাদেশের কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেলো সে দেশের পুলিশ। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ইকবাল হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেই ইকবালকে দিয়ে মণ্ডপে কোরআন রাখতে পাঠায়। আর যে সব ব্যক্তি এই কাজে জড়িত, তাদের সকলকেই খুঁজে বের করা হবে এবং কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের দুর্গা পূজা মণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা ঘিরে কোরআন অবমাননা করার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ একের পর এক দুর্গা মণ্ডপে হামলা ও মূর্তি ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে। পরে সেই হিংসা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

কুমিল্লা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবারের ওই ঘটনার পর গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লা পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ইকবাল হোসেনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Ad

তবে ইকবালের পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে দাবি করা হচ্ছে যে ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন। সে নেশায় আসক্ত ছিল। সে দীর্ঘদিন অন্তর অন্তর বাড়ি ফিরতো। পরিবারের দাবি, তাকে টাকা দিয়ে কেউ এমন কাজ করিয়েছে বলে সন্দেহ। তারই ভিত্তিতে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা ও মূর্তি কিংবা প্রতিমা ভাঙার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিমা ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পরই ওই যুবককে পাগল কিংবা নেশায় আসক্ত কিংবা মানসিকভারসাম্যহীন বানানোর চেষ্টা চলতে থাকে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের তরফে দাবি করা হতে থাকে যে ওই যুবক মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। তারপরই কিছুদিন পরই ছাড়া পেয়ে যায়। কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইকবাল হোসেনের ক্ষেত্রেও সেই চিত্রনাট্যের আভাস দেখা যাচ্ছে।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]