ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠালো বিষাক্ত প্যাকেট, হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর আগেই তদন্তে ধরা!

ইউবিজি নিউজ ডেস্কঃ আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঠিকানায় বিষাক্ত রাইসিনের প্যাকেট পাঠানো হয়। সেই প্যাকেটে ছিল রাইসিন নামক এক মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ।

তবে সেটি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছার আগেই সনাক্ত করেছে নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা। ওই প্যাকেটটি পরপর দু’বার পরীক্ষা করা হয়। দু’বারই বিষাক্ত রিচিনের উপস্থিতি নিশ্চিত হন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের নামে এই প্যাকেটটি এসেছে কানাডা থেকে। তবে কে পাঠিয়েছে এবং নিরাপত্তা ভেদ করে কীভাবেই বা হোয়াইট হাউজে তা ঢুকল এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস।

তাদের পাশাপাশি কানাডাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ম্যারি-লিজ পাওয়ার জানিয়েছেন এই ঘটনা উদঘাটনে তারা মার্কিন সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তবে তদন্তের আগে এ বিষয়ে তারা আর কোনও কথা বলতে রাজি নয়।

জানা গেছে, ক্যাস্টর অয়েল তৈরি হয় যে বীজ থেকে, সেই একই বীজ থেকেই তৈরি এই রাইসিন বিষ।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি’র মতে, রাইসিন এতটাই বিষাক্ত যে মাত্র কয়েক ফোটা লবণ দানার পরিমাণ একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটাতে পারে।

রাইসিন কোনওভাবে খেয়ে ফেললে, নিশ্বাসের সঙ্গে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঘোরা ও বমি শুরু হয়।এরপর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে। কতটুকু পরিমাণ রাইসিন শরীরে প্রবেশ করেছে তার ওপর নির্ভর করে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে।

এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউজের ঠিকানায় পাঠানো সকল পার্সেলের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে কোনও পার্সেল একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হোয়াইট হাউজে ঢুকবে না। পাশাপাশি একই ধরনের অন্যান্য প্যাকেটগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এর আগেও হোয়াইট হাউজকে উদ্দেশ্য করে রাইসিন মেশানো চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাইসিনের গুড়া মেশানো চিঠি পাঠানোর দায়ে ২০১৪ সালে মিসিসিপির এক ব্যক্তিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।