আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তান এখন তালিবানের দখলে, তালিবান আদতে কারা ?

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে তালিবান। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি শনিবার সকালে টিভিতে এক ভাষণে বলেছেন, তিনি ফের ছত্রভঙ্গ হওয়া সেনাকে সংগঠিত করবেন। কিন্তু গুজব শোনা যাচ্ছে, তিনি তলে তলে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাবুলের পতন মানেই গোটা আফগানিস্তান দেশটা চলে যাবে তালিবানের দখলে। ভারতেরই এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে শুরু হবে জঙ্গিরাজ।

কারা এই তালিবান? ঠিক কী চায় তারা? গোষ্ঠীর শীর্ষে বসে কারা তালিবানের কলকাঠি নাড়ছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক তার বিস্তারিত তথ্য।

তালিবান আদতে কারা?

তালিবান আদতে পশতু শব্দ। পশতু ভাষায় যার অর্থ ছাত্র। ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে তালিবান আন্দোলনের জন্ম হয়। ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েতদের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন তালিবান নেতা মোল্লা মহম্মদ ওমর, যিনি মুজাহিদিন কমান্ডার হন পরে। ১৯৯৬ সালে কাবুল ও কান্দাহার দখল করে তালিবানরা। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে মৌলবাদী ইসলামিক শক্তি হিসেবে শাসন করেছিল তালিবান। ২০০১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালিবানকে সরানো হয়।

আফগানিস্তানকে নিজেদের কব্জায় আনার পরই সে দেশে কঠোর ইসালমিক শাসন জারি করে তালিবানরা। অপরাধীদের প্রকাশ্যে হত্যা করার মতো কঠোর শাসন শুরু করে তালিবানরা। পুরুষদের দাড়ি রাখা, মহিলাদের বোরখা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে তারা। টেলিভিশন, সংগীত, সিনেমাও নিষিদ্ধ করে তারা। এই প্রেক্ষাপটে তালিবানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তালিবানদের একাধিক পদক্ষেপে নিন্দার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক মহলে।

Ad

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন মুলুকে জঙ্গি হামলার ঘটনার মোস্ট ওয়ান্টেড ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা। লাদেনকে হাতে পেতে আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায় আমেরিকা।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এদিকে, আফগান সরকার ও তালিবানদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

তালিবানের শীর্ষ নেতা কারা?

হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা এই মুহূর্তে তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা। গোষ্ঠীর অন্দরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা সামরিক সব ক্ষেত্রে তাঁর শাসনই চলে। পূর্বতন নেতা আখতার মনসুরের পর তালিবানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে আফগান-পাক সীমান্তে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান আখতার মনসুর।

তালিবানের পলিটিক্যাল অফিসের নেতৃত্বে রয়েছেন মুল্লাহ আবদুল ঘানি বরাদর। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সে দেশের সরকার ঘানির কাছে বহুবার আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু তিনি কর্ণপাতও করেননি।এছাড়া মুল্লাহ ওমরের ছেলে ইয়াকুব তালিবানের সামরিক কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে খবর।

তালিবান কী চায়?

দুর্নীতি, অপরাধপ্রবণতা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে জন্ম তালিবানের। কিন্তু যত দিন এগিয়েছে, তালিবান ততই হয়ে উঠেছে হিংস্র। নির্বিচারে মানুষ খুন তো বটেই, নারী অত্যাচারেও হাত পাকিয়েছে তারা। পবিত্র ইসলামের নামেই চলেছে যথেচ্ছ অপশাসন, অত্যাচার, জুলুম। তালিবানি শাসনে ভয়ে এখন দলে দলে দেশ ছাড়ছেন আফগানরা। কাবুল কান্দাহারজুড়ে শুধু সন্ত্রাস আর ভয়ের বাতাবরণ। তালিবান অবশ্য দাবি করে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছে, কিন্তু নরহত্যার আতঙ্ক আফগানিস্তানের পাঁজরে গেঁথে গিয়েছে। এর থেকে মুক্তি কোথায়? উত্তর খুঁজছে কাবুলিওয়ালাদের দেশ।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]