দেশ

কবে পড়ছে গণেশ চতুর্থীর তিথি, জানুন পুজোর শুভক্ষণ

কিছুদিন পরই গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi), তাঁরই প্রাক্কালে সিদ্ধিদাতা গণেশের (Ganesh) আরাধনার আয়োজনে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। শহর কলকাতাও (Kolkata) সাজছে গণেশ পূজার আনন্দে।

গণেশ চতুর্থীর গুরুত্ব

হিন্দু চন্দ্র-সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভাদ্রমাসে যা সাধারণত আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পড়ে, গণেশ পুজোর আয়োজন করা হয়। গণপতি, বিনয়াক এবং বিঘ্নহন্তার মতো নানা নাম গণেশের। বলা হয়, গণেশ পুজো বাদ দিয়ে কোনও পুজোই সম্পূর্ণ হয় না। গণেশ ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবী পার্বতী গণেশের সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁকে পার্বতীর দরজা পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। শিব ফিরে এসে পার্বতীর ঘরে ঢুকতে গেলে গণেশ তাঁকে বাধা দেন। একটি ছোট ছেলের এই আস্পর্ধা দেখে শিব রেগে যান। শিবের সঙ্গে গণেশের যুদ্ধও শুরু হয়। তখন রাগের মাথায় শিব গণেশের মাথা কেটে ফেলেন।

Ad

গণেশের মুণ্ডহীন দেহ দেখে পার্বতী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে বলেন শিবকে। শিব তখন অন্য দেবতাদের নির্দেশ দেন উত্তর দিকে গিয়ে যার মাথা আগে দেখতে পাবে সেই মাথাই কেটে নিয়ে আসতে। দেবতারা প্রথমেই একটি হাতি পেয়ে তারই মাথা নিয়ে আসে। সেই মাথাটিই গণেশের দেহে বসিয়ে দেন শিব।

গণেশ চতুর্থী কবে পড়েছে?

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পড়েছে গণেশ চতুর্থী। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই চতুর্থী ২ দিন ব্যাপী মানা হলেও, টানা ১০ দিন গমেশের বন্দনায় মেতে থাকে মহারাষ্ট্র। একইভাবে গণেশ পুজোয় ‘অভিষেক’এর মাধ্যমে পুজো শুরু করে টানা ১০ দিন ধরে দক্ষিণভারতের বিভিন্ন জায়গায় গণেশ বন্দনা করা হয়। ১১ তম দিনে হয় গণেশ মূর্তির ভাসান ।

গণেশ মূর্তির ভাসানের দিনকে কী বলা হয়?

মূলত যে দিন থেকে গমেশের পুজো শুরু হয়, সেই দিন থেকে ১০ দিনের পর এগারোতম দিনে ভাসান দেওয়া হয় গণেশের মূর্তির। এই দিনটিতে ‘অনন্ত চতুর্দশী’ বলা হয়। ‘আসছে বছর আবার হবে’র বার্তা দিয়ে এমন শুভ দিনে ভাসন দেওয়া হয় সমৃদ্ধির দেবতাকে।

গণেশ চতুর্থীর তিথি

১০ সেপ্টেম্বর পড়েছে ২০২১ সালের গণেশ চতুর্থী। এই দিমে পার্বতীপুত্রের কাছে যদি মনের ইচ্ছা প্রার্থনা করে তাঁকে সঠিকভাবে পুজো দিয়ে তুষ্ট করা যায়, তাহলে মিলতে পারে মনের মতো প্রার্থনার ফল। শাস্ত্র মতে এমনই বার্তা দেওয়া রয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ১২:১৭ মিনিটে গণেশ চতুর্থীর তিথি পড়ছে। অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাত পার হলেই পড়ে যাচ্ছে চতুর্থী। পরের দিন ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা পর্যন্ত রয়েছে তিথি। বেশ কয়েকটি রীতি মেনে এই দিন গণেশ দেবতাকে তুষ্ট করতে পুজো দেওয়ার রীতি রয়েছে।

গণেশকে ভুলেও দেবননা তুলসী পাতা

গণেশ পুজোয় তুলসী পতার প্রচলন নেই। এক পৌরণিক কাহিনি মতে , তুলসী দেবীর সঙ্গে গণেশের সম্পর্ক ঘিরে রয়েছে কাহিনি, বলা হয়, তুলসী দেবী কেবলই বিষ্ণুর উপাসনা করতেন। বিষ্ণুদেব বাদে কারোর আরাধনা তিনি করতেন না। তবে তুলসী দেবীর সঙ্গে গণেশের বিবাহের কথা এগোতেই তাঁরা একে অপরকে অভিশাপ দেন বলে শোনা যায়। সেই থেকে গণেশ পুজোয় ব্যবহার করা হয়না তুলসী।

কোন কোন উপকরণ নিয়ে হয় গণেশ পুজো?

বলা হয়, গণেশের পুজোয় লাগে , দুর্বা ঘাস। অবশ্যই গণেশের প্রসাদের পাতে পড়ে মোদক। মোদক ছাড়া গণেশ পুজো কিছুতেই সম্পন্ন হয় না। এছাড়াও বিশেষ পাকে তৈরি করা মোদক গণেশকে দেওয়া হয়। মূলত ১০ দিনে ১০ রকমের প্রসাদ দিয়ে ঘরের গণেশকে আরাধনা করা হয়। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, গণেশের পুজোর আরতি। আরতির সময় বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণে দেবতা তুষ্ট হন বলে শোনা যায়।

গণেশ পুজোর বিধি

এছাড়াও গণেশ পুজোতে লাল কাপড় লাগে, তৈরি করতে হয় পঞ্চামৃত। পুজোর উপকরণে রাখতে হয় পৈতে। সুপুরি, পান, লবঙ্গ, ঘি,কর্পুর, গঙ্গাজল দিয়ে সিদ্ধিবিনায়ক গণেশের পুজো সম্পন্ন হয়। বিঘ্নহর্তাকে বিশেষ আচারে পুজো করলে কেটে যায় বহু বিপদ। এমনই মত বিশেষজ্ঞদের।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]