কৃষি আইনের বৈধতা-সহ যাবতীয় বিষয়-নির্ভর আবেদনগুলির আজ শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : প্রতিবাদী কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের আট দফার বৈঠকেও সমাধানসূত্র মেলেনি। এই পরিস্থিতিতেই কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি সীমানায় বিক্ষোভ, কৃষি আইনের বৈধতা-সহ যাবতীয় বিষয়-নির্ভর আবেদনগুলির আজ শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট।

গত ৭ জানুয়ারি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কেন্দ্রীয় সরকার। জট না কাটলেও আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাবে সম্মত জানান কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

গত ৬ জানুয়ারির শুনানিতে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সব মামলার শুনানিতে সম্মতি জানায় শীর্ষ আদালত। মামলাগুলির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় ১১ জানুয়ারি। কৃষি আইন সংক্রান্ত যাবতীয় আবেদনগুলিকে একত্রিত করে এ দিন শুনানি হবে সর্বোচ্চ আদালতে।

কী বলছেন কৃষকরা

অষ্টম দফার আলোচনায় কৃষকরা জানিয়ে দেন,  নতুন তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে নারাজ তাঁরা। ‘আমাদের ঘর ওয়াপসি তখনই সম্ভব যদি আইন ওয়াপসি হয়’, বলেছেন কৃষকরা।

এক কৃষক নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “মনে হচ্ছে আপনারা (সরকার) এই সমস্যার সমাধান করতে চান না। কারণ অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। সে ক্ষেত্রে দয়া করে আমাদের একটি স্পষ্ট উত্তর দিন, তবেই আমরা যাব। কেন নিজেদের এবং আমাদের- সবার সময় নষ্ট করছেন”।

কী বলছে কেন্দ্র

আলোচনার মাধ্যমে জট কাটানোর ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমরও গত বৃহস্পতিবার ফের এক বার জানিয়ে দিয়েছিলেন, “কৃষি আইন প্রত্যাহার করবে না কেন্দ্র”।

আগের দিনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, “আমরা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করছি। উভয়ের মধ্যে কিছুটা বোঝাপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে”।

কিসান প্যারেড

সরকারের সঙ্গে পরবর্তী দফায় আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন নয়া তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, আগামী দফার বৈঠকে কোনো সমাধানসূত্র না মিললে তাঁরা ২৬ জনুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন তাঁরা ট্র্যাক্টর র‍্যালি করবেন।

আগামী ২৬ জানুয়ারি সারা দেশ জুড়ে পালিত হবে সাধারণতন্ত্র দিবস। দিল্লিতে প্রধান অতিথি হয়ে আসবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রাজপথে সাধারণতন্ত্র দিবসে অংশ নেবেন তিনি। কৃষক নেতা দর্শন পাল সিং সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তাঁদের প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর র‍্যালির নামকরণ করা হয়েছে “কিসান প্যারেড”। যা সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের পরে অনুষ্ঠিত হবে।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য-সহ অন্য়ান্য বিষয়ে লিখিত ভাবে আশ্বাস দিতে প্রস্তুত কেন্দ্র। তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা নতুন তিন আইন বাতিল ছাড়া অন্য কিছুতেই মীমাংসায় যাবেন না। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে আজকের শুনানি কোনো দিশা দেখাতে পারে কি না।