লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে

ইউবিজি নিউজ, মালদা : সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়,  তারপরে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে। এরপর লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

এমনকি পুরো ঘটনার ব্যাপারে পুলিশে নালিশ জানানোয় ওই গৃহবধূকে এলাকা ছাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত স্বামী ও তার দলবলের বিরুদ্ধে ।

গোটা ঘটনাটি নিয়ে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানানোর পরেও কোনো সুরাহা না হওয়ায়, অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় ওই গৃহবধূ।

যদিও ঘটনাটি জানার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে ইংরেজবাজার থানার পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারেও ইংরেজবাজার থানার পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকার ওই গৃহবধূ শম্পা সরকার এক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের মাধ্যমে বিয়ে করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা সুদাম দাসকে।

তিনি ইংরেজবাজার পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূর নামে থাকা সমস্ত টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত স্বামী বলে অভিযোগ ।

 বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করলে ওই গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই গৃহবধূ মালদা শহরের একটি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ শম্পা সরকার বলেন , আমাকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন সুজন দাস । এরপর শ্বশুরবাড়িতে না তুলে শহরের একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে রাখা হয়।

এমনকি আমার পরিচয় পত্রে স্বামী হিসাবে সুদাম দাসের নাম উল্লেখ রয়েছে । আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকার ওপর আত্মসাৎ করেছে সে ।

এছাড়াও কয়েক লক্ষ টাকার অলঙ্কারও হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত সুদাম দাস। স্ত্রীর মর্যাদা টুকুও আমাকে দেওয়া হয় নি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এমনকি রাস্তায় চলাফেরা করার সময় অ্যাসিড নিয়ে হামলা করেছে অভিযুক্ত সুদাম দাস। গত ২৩ মার্চ পুরো বিষয়টি নিয়ে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

 পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু তারপরেও অভিযুক্ত গ্রেফতার হয় নি । বরঞ্চ সে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে । তাই বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সুবিচার চেয়েছি।

এদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই সুদাম দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, কোনরকম ভাবে যোগাযোগ করা যায় নি। এমনকি বারবার তাকে ফোন করলেও সুদামবাবু ফোন ধরেন নি।

এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য তথা রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন মৌসম নুর বলেন , এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।

বিষয়টি শুনেছি ।পুলিশকে বলবো পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যেন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপারসন নিহার ঘোষ বলেন , পুরসভার অস্থায়ী এক কর্মীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে কিছু জানা নেই। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।