ডিজিটাল মিডিয়া ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক: সরকারি আতসকাঁচের তলায় এবার ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট। নির্দেশের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সোশাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে হবে আপত্তিজনক কনটেন্ট, ঘোষণা কেন্দ্রের। ভারতেও এবার সোশাল মিডিয়া ও OTT প্ল্যাটফর্মের জন্য চালু হল একগুচ্ছ নিয়মাবলী। ওয়েব সিরিজ থেকে চ্যাট শো, তথ্য চিত্র থেকে ওয়েব নিউজ সবই আসবে এই নিয়মের আওতায়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ।

ডিজিটাল কন্টেন্ট এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়ন্ত্রণে খসড়া নির্দেশিকা নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা’র পক্ষে ক্ষতিকারক বিষয়গুলিকে নিষিদ্ধ করতে একাধিক মন্ত্রকের সমন্বয়ে খসড়া নির্দেশিকা নিয়ে এসেছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সরকার সোশ্যাল এবং ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থাগুলির মধ্যস্থতাকারী জবাবদিহি সংক্রান্ত নিয়ম এবং নতুন নির্দেশিকাগুলির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির জন্যও নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আপত্তিজনক’ ভাষা

কেন্দ্রীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর আজ এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আপত্তিজনক’ ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিজনক বিষয়বস্তু সরকার অনুমোদন করবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হিংসা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করছে’। তিনটি স্তরে নজরদারি চলবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি স্তরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ নথিভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ নথিভুক্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে তার সমাধান করবেন। মহিলাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টগুলি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে সংস্থাগুলিকে। নিয়ম অনুসরণ করে প্রতি মাসে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা করবে তারা।

একাধিক মন্ত্রকের সমন্বয়ে কমিটি

খসড়া অনুযায়ী, তদারকির প্রক্রিয়াটিতে প্রতিরক্ষা, বিদেশ, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জানা গিয়েছে, ওই কমিটির হাতে নিয়মাবলি লঙ্ঘনের অভিযোগে শুনানি আহ্বানের জন্য ‘স্বত:প্রণোদিত ক্ষমতা’ থাকবে। কমিটি নীতি লঙ্ঘনকারীদের সতর্ক, সেন্সরিং, ​​পরামর্শ বা তিরস্কার করতে পারে। এমনকী অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষমা চাইবার নির্দেশও দিতে পারবে।
এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে যুগ্মসচিব বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো আধিকারিকের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হবে। তিনি কোনো কন্টেন্টকে আপত্তিজনক মনে করলে ব্লক পর্যন্ত করে দিতে পারবেন।

নিয়ন্ত্রণে হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম

খসড়া নিয়মে এমনটাও বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো পোস্টের উত্‍স সন্ধানও করা যাবে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নিয়মাবলি

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর বলেন, সমস্ত মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য এখন একটি নিয়ম থাকা উচিত। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নিয়ম তৈরি করতে আমরা প্রতিদিন কয়েক’শ চিঠি পাচ্ছি। তিনি জানান, ওটিটি এবং ডিজিটাল মিডিয়াতেও ত্রি-স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই খসড়াটি নেটফ্লিক্স এবং প্রাইম ভিডিয়োর মতো স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলিকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্যতা করবে। এগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানির জন্য একটি স্বাধীন আবেদন কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। যেখানে উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে ওই শুনানি চলবে।