বিজেপিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? ৭ ই মার্চ ব্রিগেডে বড় চমক মোদির

ইউবিজি নিউজ ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আব্বাস সিদ্দিকিকে নিয়ে বাম-কংগ্রেসের ডাকে ব্রিগেড সমাবেশ রাজনীতির হিসেবনিকেশ নতুনভাবে করতে বাধ্য করছে সব পক্ষকেই। এই আবহেই ৭ মার্চ ব্রিগেডে সেরা সমাবেশ করার টার্গেট নিয়েছে বিজেপি।

তার মধ্যেই তৃণমূল ও বিজেপিতে টলিউড ও ক্রীড়া জগতের তারকাদের যোগদান করানোর পালা চলছে। স্বাভাবিকভাবেই ফের জল্পনা শুরু হয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে। জল্পনা চলছে নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতেই ব্রিগেডের মঞ্চে বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন বিসিসিআই সভাপতি তথা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকেই মুখ হিসেবে তুলে ধরার ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই আবহে মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর মুখ নেই বিজেপির। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, সঠিক সময়েই সব কিছু পরিষ্কার হবে। উত্তরপ্রদেশেও নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল যোগী আদিত্যনাথকে।

অন্য রাজ্যে আরও এমন উদাহরণ আছে। তৃণমূল পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে বলছে, বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে আদি ও নব্যদের কোন্দল চরমে উঠল বলে। অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতির পালা চললেও বিজেপির একাংশ মনে করছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হতে পারেন নির্বিকল্প।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা চলছে কয়েক বছর ধরেই। সৌরভের ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটের সেফ সিট থেকে সৌরভকে জিতিয়ে এনে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে বসাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদী। সকলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা সৌরভ সবিনয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, আমি খেলার জগতের মানুষ।

খেলার মাঠেই থাকতে চাই। সৌরভকে পেতে সক্রিয় হয়েছিল তৃণমূলও। কিন্তু তা হয়নি। সৌরভ বারেবারেই তাঁর রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে বলে থাকেন, এটা অনেকটা দুর্গাপুজোর মতো। প্রতি বছরই নাম উঠে আসে, আবার মিলিয়েও যায়। রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনাই নেই।

পরে কী হবে দেখা যাবে। এমনকী সৌরভের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ তথা শিলিগুড়ির প্রশাসক এবং রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য পরামর্শ দিয়েছিলেন, রাজনীতিতে আসার দরকার নেই। তবু জল্পনা থেমে নেই। এমনকী সৌরভ মুখ্যমন্ত্রী হোন এটা কত শতাংশ মানুষ চান তা নিয়ে সমীক্ষাও চলেছে।

বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার আগে অমিত শাহের সঙ্গে সৌরভের বৈঠক তাঁর রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা জোরালো করে। রাজ্য সরকারের জমি ফিরিয়ে দেওয়া বা রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত সেই জল্পনায় ইন্ধন দেয়। চলতি বছরের গোড়ায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বিজেপির দিকে অনেকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন, বিজেপিতে যোগদান করানোর জন্য সৌরভকে এতটাই চাপ দেওয়া হচ্ছে যে তার ফলেই এই ঘটনা। সৌরভের অসুস্থতার খবর নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ।

কলকাতার বাইরে নিয়ে গিয়ে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কলকাতায় পাঠিয়ে চিকিৎসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাসপাতালে অন্য দলের নেতাদের পাশাপাশি তাঁকে দেখতে যান বিজেপি নেতারাও। এখনও অবধি সৌরভের শেষ টুইট নিয়েও চর্চা চলছে।

যেখানে তিনি লেখেন, মোতেরায় গোলাপি বলে টেস্টে হাজির থাকতে পারছেন না। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বে নতুনভাবে গড়ে ওঠা মোতেরা স্টেডিয়ামে কোনও আসন ফাঁকা থাকবে না বলেই তাঁর আশা। উল্লেখ্য, ১ লক্ষ ১০ হাজার দর্শকাসনবিশিষ্ট মোতেরার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ৫০ শতাংশ দর্শককে খেলা দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের আগে সৌরভকে নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে।