ফিরল স্বস্তি, করোনার দৈনিক সংক্রমণ নামল এক লক্ষের নিচে

নয়াদিল্লি, ৮ জুনঃ মার্চের শেষ দিক থেকে ক্রমাগত বাড়ছিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এপ্রিল ও মে মাসে তো সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। মে মাসের গোড়ার দিকে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়েছিল ৪ লক্ষের গণ্ডি। তারপর থেকে ক্রমশ কমতে শুরু করে সংক্রমণ।

মঙ্গলবার তা আরও খানিকটা নেমে আপাতত স্বস্তিসূচকে দাঁড়াল। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টা দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮৬ হাজার ৪৯৮ জন। বলা হচ্ছে, গত ৬৬ দিনের মধ্যে এটাই সংক্রমণের সর্বনিম্ন হার। একদিনে করোনার বলি ২ হাজার ১২৩। আর একই সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ২৮২।

মহামারীর দ্বিতীয় ধাক্কা শেষের পথে দেশের কোভিড গ্রাফের দিকে নজর ছিল সব মহলের। ধীরে ধীরে তা নিম্নমুখী হচ্ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিনও এক লক্ষের সামান্য বেশি ছিল দৈনিক সংক্রমণ। তবে দ্বিতীয় দিনই তা নেমে এল লক্ষের নিচে। কমছে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও। এই মুহূর্তে দেশে অ্যাকটিভ কেস ১৩ লক্ষ ৩ হাজার ৭০২।

একই সঙ্গে কমেছে মৃত্যুর হারও। তবে স্বাস্থ্যমহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ, যে হারে সংক্রমণ কমছে, মৃত্যুকে সেই হারে রোখা যাচ্ছে না এখনও। এ নিয়ে মারণ ভাইরাসের বলি দেশের মোট ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৩০৯। মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৭৩ জন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪১ হাজার ৪৬২।

বছরের প্রথম থেকে কোভিড যুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণটিকাকরণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশের ২৩ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭০২ জন পেয়েছেন করোনা ভ্যাকসিন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার বিকেলেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

দেশবাসীকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। রাজ্যগুলির থেকে কোনও অর্থ নেওয়া হবে না। দেশবাসীর টিকাকরণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের। এই ঘোষণায় স্বভাবতই টিকাকরণ নিয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে আমজনতা। আর তার ঠিক পরদিনই দেশের করোনা গ্রাফ স্বস্তি আরও খানিকটা বাড়িয়ে তুলল।