দেশ

পশ্চিম নওদাপাড়া মিনি শিশু শিক্ষা মাদ্রাসার রসিদ ঘিরে ধোঁয়াশা বাড়ছে মুর্শিদাবাদের নওদা পাড়ায়

মুর্শিদাবাদ, ২২ সেপ্টেম্বর: ডোমকলে ধৃত জঙ্গী আল মামুন কামালের বাড়ি থেকে মিলল মাদ্রাসার রসিদ। আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে ধৃত ডোমকলের নওদাপাড়ার বাসিন্দা আল মামুন কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি মাদ্রাসার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

ওই মাদ্রাসার রসিদ ঘিরে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। রসিদে লেখা রয়েছে পশ্চিম নওদাপাড়া মিনি শিশু শিক্ষা মাদ্রাসা। রসিদে এই মাদ্রাসার সম্পাদক হিসেবে আল মামুন কামাল-এর নাম ছাপা রয়েছে।

তদন্ত যত এগোচ্ছে একের পর এক তথ্য সামনে আসায় বাড়ছে উদ্বেগ। উদ্বেগ বাড়ছে আল মামুন কামালের পরিবার সহ এলাকাবাসীদের মধ্যেও। গ্রামের মধ্যে মাটির এক চিলতে ছোট্ট ঘরেই গত প্রায় এক বছর আগে শুরু হয় মাদ্রাসার যাত্রা।

আরবি শেখানো হতো ওই মাদ্রাসায়। একই সঙ্গে নামাজ পাঠের শিক্ষাদান ও কোরানের শিক্ষাও সেখানে দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে এটা সেভাবে কোন মাদ্রাসা বলে চিহ্নিত ছিল না।

Ad

তাহলে কি ভাবে ছাপানো হল এই রশিদ? গ্রামের কেউ কেউ বলছেন এই রশিদ কেরলে পাঠানো হতো অর্থ সংগ্রহের জন্য। সেই টাকাতেই নাকি চলতো এই মাদ্রাসা।অতিরিক্ত টাকা মসজিদ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হত।তবে, লকডাউন শুরু হওয়ার পর টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় পশ্চিম নওদাপাড়া মিনি শিশু শিক্ষা মাদ্রাসা।

সুদূর কেরলে যারা কাজ করতে গিয়েছেন, সেখানে তারা এই রশিদ দেখেছেন বলে দাবী করেছেন কয়েকজন। কিন্তু অর্থ সংগ্রহের পর কি হতো- তার স্পষ্ট ধারণা নেই কারও কাছেই।

 তবে নওদা এলাকার অনেকের দাবি, শিশু শিক্ষা মাদ্রাসার জন্য কেরল থেকে সংগৃহীত অর্থ মাদ্রাসার জন্যই খরচ হত। আর এই সব কিছুকে কেন্দ্র করে, পুরো বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সব সময় খেটে খাওয়ার মানসিকতাই ছিল আল মামুন কামাল-এর। যখন যা কাজ পেতো তাই করতো আল মামুন। পান বিক্রি করা থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজ বা গাড়ি চালানো সবই করতো আল মামুন।

এমনকি ৬ মাস জলঙ্গী থানায় গাড়িও চালায় আল মামুন কামাল।লক ডাউনের সময় সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় পান বিক্রি করে সংসার চালিয়েছে আল মামুন।

সেই ছেলে কিভাবে টাকার জন্য জঙ্গি দলে নাম লেখালো তা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না নওদার মানুষেরা।তাদের ভাষায় চক্রান্ত করে ফাসানো হয়েছে তাদের গ্রামের ছেলে আল মানুনকে।(বক্তব্য – ফুল মন্ডল)

গ্রামের প্রত্যেকের কাছেই খুব ভালো মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল আল মামুন। যেকোন সময় যেকোন সমস্যায় এগিয়ে যেত সে। এমনকি এলাকার মসজিদ তৈরির জন্য প্রয়োজনে অর্থ সাহায্যও করতো আল মামুন বলে জানিয়েছেন নওদাপাড়ার বাসিন্দারা।

 (বক্তব্য – শাহজানা মন্ডল) কতদিন ধরে তৈরি হচ্ছিল এই মসজিদ? পুরনো মসজিদ ৩০ বছর ধরে থাকলেও, গত ২ বছর ধরে তৈরি হচ্ছিল নতুন মসজিদ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এখানেই।

যে আল মানুনকে লকডাউনে সংসার চালাতে ঘুরে ঘুরে পান বিক্রি করতে হত, সেই আল মামুন মসজিদ তৈরির জন্য গত ২ বছর ধরে কোথা থেকে টাকা দিতেন।

তাহলে কি সমস্তটাই ছিল ভাল মানুষ আল মামুনের আড়ালে জঙ্গি গোষ্ঠীর নির্দেশে সকলের আই ওয়াস করে সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া? এসব প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

তবে, সব প্রশ্নকে দূরে সরিয়ে রেখে আল মামুনের পরিবার চাইছে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরুক। দিন মজুর পরিবারের ছেলে কোনভাবেই এই কাজের সাথে যুক্ত হতে পারে না বলেই দাবি আত্মীয়দের। সব নিয়ে যতই বাড়ছে ধন্দ, ততই উৎকণ্ঠাও বাড়ছে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আল মামুন কামাল-এর পরিবারে।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]