প্রধানমন্ত্রী মোদী তার সঞ্চয় এবং নিলামের আয়ের ১০৩ কোটি টাকা দান করলেন জনকল্যাণ প্রকল্পে

ইউবিজি নিউজ ডেস্কঃ দেশের মানুষের কল্যাণের স্বার্থে এর আগেও উপহার পাওয়া নানা সামগ্রী নিলামে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি ‘পিএম কেয়ারস’- এ সবার প্রথম তিনিই ২.২৫ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন।

এবার প্রকাশ্যে আনা হল, তাঁর দানের তথ্য। নিজের সঞ্চয় ও উপহার নিলাম করে পাওয়া অর্থ থেকে এখনও পর্যন্ত ১০৩ কোটি টাকা তিনি দিয়েছেন দেশের মানুষের কল্যাণের স্বার্থে। সূত্রের খবর এমনটাই বলছে।

শুধু এখন নয়, এর আগেও তিনি দান করেছিলেন। যখন নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকাল শেষ হওয়ার পরেই, তিনি সেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কন্যা সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ২১ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন। পাশাপাশি নিজের উপহার সামগ্রী নিলাম করে প্রায় ৯০ কোটি টাকা কন্যা কেলাবেনি ফান্ডেও দান করেছিলেন মোদী। অর্থাৎ নিজের রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কন্যা সন্তানদের শিক্ষার জন্য তিনি এগিয়ে এসেছিলেন।

এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি সেই ধারা বজায় রেখেছেন। ২০১৯ সালের কুম্ভ মেলায় সাফাই কর্মচারীদের কল্যাণের স্বার্থে তাঁদের জন্য গঠিত তহবিলে ২১ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় সোল পিস পুরস্কারের জন্য যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন, সেই অর্থও তিনি দান করেন গঙ্গা সাফাই মিশনের জন্যে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া উপহার নিলাম করে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা নদী সংস্কারের জন্য দান করেন।

যদিও এই ‘পিএম কেয়ারস’ ফান্ড নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনায় পড়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থাকতে, নতুন করে ‘পিএম কেয়ারস’-এর মতো আরও একটি ফান্ড গঠন করার প্রয়োজন কেন পড়ল? এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পিএম কেয়ারস ফান্ড তৈরির মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই ৩০৭৬ কোটি টাকা অনুদান জমা পড়েছিল। এই তহবিলের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল। এদিকে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, সিএজি (CAG) এই ফান্ডের অডিট করতে পারবে না।

সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম দাবি করেছেন যে, যারা পিএম কেয়ারসে অর্থ দান করেছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনা হোক। এই পরিস্থতিতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই, প্রধানমন্ত্রীর দানের খতিয়ান প্রকাশ্যে এনে বিরোধীদের মুখ বন্ধের, এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হল বিজেপি শিবির থেকে। এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।