তন্ত্র সাধনার জন্য ছেলেকে খুন করল মা? বাড়ি থেকে উদ্ধার লাল কাপড়, বই

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : তন্ত্র সাধনার জন্যই কি সল্টলেকে নিজের পঁচিশ বছর বয়সি ছেলেক খুন করল মা? প্রাথমিক তদন্তে এমনই অনুমান পুলিশের। কারণ সল্টলেকের এজে-২২৬ নম্বর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে লাল কাপড়, তন্ত্র সাধনা সংক্রান্ত বেশ কিছু বইও। বৃহস্পতিবার রাতেই ওই বাড়ির ছাদ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে।সল্টলেকের এজে-২২৬ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা গীতা মহেনসারিয়ার বিরুদ্ধে নিজের বড় ছেলে অর্জুনকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তের স্বামী অনিল মহেনসারিয়ার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই গীতা এবং তার ছোট ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গীতার বিরুদ্ধে তাঁর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন অনিল। খুনের অভিযোগও করেন তিনি। তল্লাশিতে গিয়ে সল্টলেকে গীতা-অনিলের বাড়ির ছাদ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়। সেটি নিখোঁজ অর্জুনের দেহের কঙ্কাল বলেই অনুমান পুলিশের।

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।অর্জুনকে খুনের অভিযোগে তাঁর মা গীতা এবং ভাই বিদুইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, অর্জুন স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ছিলেন। চলাফেরার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন তিনি। অর্জুনের মা গীতা তন্ত্র সাধনায় বিশ্বাস করতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সল্টলেকের ওই বাড়ির বাইরেও রদ্রাক্ষের মালা ঝোলানো রয়েছে। আঁকা রয়েছে স্বস্তিক চিহ্ন।গীতা এবং অনিল মহেনসারিয়ার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল।

পারিবারিক বিবাদের কারণেই নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে থাকতেন তিনি। অনিলবাবু আলাদা থাকতে শুরু করার পরেই দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে গীতা। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে আরও বেশি করে তন্ত্র সাধনার উপরে গীতা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সল্টলেকের ওই বাড়িতে নিয়মিত তান্ত্রিকদের যাতায়াত ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরাও।

প্রতিবেশীরাও আরও জানাচ্ছেন, তান্ত্রিকের পরামর্শে বাড়ির সামনের দিকের নকশাও বদলে ফেলেছিল গীতা। এমন কি, বড় ছেলে অর্জুনের উপর আত্মা ভর করেছে বলেও এক তান্ত্রিক গীতাকে জানিয়েছিল বলে প্রতিবেশীদের তিনি জানিয়েছিলেন।পুলিশের অনুমান, তান্ত্রিকের পরামর্শেই নিজের ছেলে অর্জুনকে মেরে ফেলতে পারে গীতা। অথবা তন্ত্র সাধনার জেরে শারীরিক কোনও আঘাতের জেরেও মৃত্যু হতে পারে অর্জুনের।

যে কঙ্কালটি ছাদের উপরে পাওয়া গিয়েছে, সেটি মৃত্যুর পরে সেখানেই পোড়ানো হয়েছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।অনিলের অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর তিনি জানতে পারেন, তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে রাঁচিতে নিজের মায়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন গীতা। কিন্তু নভেম্বর মাসে তিনি জানতে পারেন, ছোট ছেলে বিদুর এবং মেয়ে বৈদেহী সেখানে থাকলেও বড় ছেলে অর্জুন রাঁচিতে নেই। অথচ ফোনে তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানান যে অর্জুনও সেখানেই রয়েছে। বৃহস্পতিবারই বিধাননগর পূর্ব থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে বড় ছেলে অর্জুনকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সালের ১০ ডিসেম্বর অনিল এবং গীতার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের তিন সন্তান ছিল। নিখোঁজ অর্জুনের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর ভাই বিদুইয়ের বয়স ২২, বোন বৈদেহীর বয়স ২০। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি অর্জুনেরই কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ফরেন্সিক পরীক্ষা করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবারই শ্যামবাজার এলাকা থেকে অর্জুনের মা গীতা এবং ভাই বিদুইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।