আচমকা দিল্লি সফরে রাজ্যপাল, বাড়ছে জল্পনা

কলকাতা, ১৫ জুনঃ সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী-সহ ৫০ জন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর তার পরের দিনই দিল্লি উড়ে যাচ্ছেন রাজ্যপাল।

আজ দিল্লি যাবেন রাজ্যপাল। ফিরবেন আগামী ১৮ জুন। রাজ্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধনখড়ের দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরার পরই দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্যপালের সঙ্গে এ বিষয়টি উত্থাপনও করেন তিনি। রাজ্যপালও এই আইন কার্যকর নিয়ে মুখ খোলেন। পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ফের সরব হন তিনি। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর দিনই রাজ্যপালের এই সফর উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, একুশের নির্বাচন পরবর্তী বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে সোচ্চার হয় বঙ্গ বিজেপি। ৩৫৬ ধারা জারি নিয়ে সরব হন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। অর্জুন সিং বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি, আইন অনুযায়ী ৩৫৬ ধারা জারি করুন’। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারি জানান, ‘৩৫৬ ধারা যেসব কারণে লাগু করা হয়, তার থেকেও খারাপ অবস্থা বাংলায়’।

কিছুদিন আগে কার্যত পরোক্ষে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছিল রাজ্যপালের গলায়। নারদ কেলেঙ্কারি মামলায় দুই মন্ত্রী-সহ চারজনের গ্রেফতারি ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে কলকাতায়। নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরের সামনে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়, অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো টুইটারে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইটারে রাজ্যপাল লেখেন, ‘এই নৈরাজ্যের পরিণতি কী হতে পারে, আশা করি আপনারা সেটা বুঝতে পারছেন’। এই ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন, তা নিয়ে রাজ্যপালের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ। টুইট বার্তায় তাহলে কীসের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যপাল? তাহলে কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে? এমন চর্চাও চলে রাজ্য রাজনীতিতে।