EXCLUSIVE : “মিশন-২১” চূড়ান্ত হল বিজেপির বঙ্গ জয়ের নীল নকশা

ওয়েব ডেস্কঃ সেমিফাইনাল আজ অতীত, এবার বিজেপির সামনে ফাইনালের লড়াই। এই লড়াইয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য দলকে কমপক্ষে ১৪৮ টি আসন জয় করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে তানিয়ে দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত করলো রাজ্য বিজেপি। বুধবার দিল্লিতে এই রণকৌশল বৈঠক হয় অমিত শাহর বাড়িতে। সন্ধ্যে ৭ টা থেকে বৈঠক চলে প্রায় রাত দশটা পর্যন্ত।

ঠিক হয়েছে, পুজো শেষ হলেই ব্যাপক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তার আগে মানুষ কোন কোন বিষয়ে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ এবং কোন বিষয় নিয়ে নিয়ে বিরক্ত সেগুলি চিহ্নিত করতে হবে। তারপর তৈরি হবে আন্দোলনের রুপরেখা। সেই সঙ্গে তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যংক সংহত করার প্রয়াসকে মাথায় রেখে পাল্টা হিন্দু ভোটকে বিজেপির অনুকূলে সুসংহত করতে হবে। এই কাজে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হবে এনআরসি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, অসমের এনারসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালি মনে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না হয় তা সুনিশ্চিত করতেই হবে। কোনও দ্বিধা দ্বন্দ্ব না রেখে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে, হিন্দুদের ওপর এনআরসি প্রয়োগ হবে না। ভারত ভাগ হয়েছে দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে, সেক্ষেত্রে ভারত অবশ্যই হিন্দুদের জন্য আর বাংলাদেশ ,পাকিস্তান মুসলিমদের।

সুতরাং ভারতে যারা মুসলিম আছেন তারা দেশ ভাগের আগে এসেছেন নাকি পরে, যদি পরে এসে থাকেন তাহলে তারা অনুপ্রবেশকারী। এটা চিহ্নিত করতেই বাংলায় এনারসি হবে। এই বার্তা রাজ্যজুড়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে। যাতে তৃনমূল হিন্দুদের বিভ্রান্ত না করতে পারে, অন্যদিকে হিন্দু ভোট যাতে বিজেপির পক্ষে সংগঠিত হয়।

সংঘটনকে মজবুত করা এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির জন্য ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের রিপোর্ট তৈরি করতে হবে আগামী একমাসের মধ্যে। এই উদ্যেশ্যে ৪২ টি টিম তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি টিমে থাকবেন চারজন সদস্য। একটি টিমের হাতে একটি লোকসভা কেন্দ্র। টিমে সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্য স্তরের নেতাদের যুক্ত করা হচ্ছে। এক জেলার নেতাকে পাঠানো হবে অন্য জেলায়, রিপোর্টকে নিরপেক্ষ রাখার স্বার্থে। এই টিম নির্দিষ্ট লোকসভার সমস্ত বুথের তথ্য নেবেন। কোন বুথে কমিটি আছে, কমিটিতে সদস্য কতজন।

কোথায় নেই,কেন নেই। কোথায় দলের প্রভাব বেশি, কোথায় দলের প্রভাব কম, কেন কম? কার প্রভাব সেখানে বেশি, কেন বেশি, তাদের নেতা কে? কোন এলাকায় কি ধরণের সমস্যা? সব কিছু খতিয়ে দেখার পর রিপোর্ট জমা পড়বে দিলীপ ঘোষের কাছে। সেই রিপোর্ট নিয়ে দিলীপ ঘোষ অক্টোবরে যাবেন দিল্লি, জমা দেবেন অমিত শাহর হাতে। সেই রিপোর্ট নিয়ে ফের রাজ্য কমিটির নেতাদের সঙ্গে নভেম্বরে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই ঠিক হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।