Ad
দেশ

ইসরোতে চন্দ্রযানের অবতরণের লাইভ দেখবে মোদীর সঙ্গে ৬০ স্কুলপড়ুয়া

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

UBG NEWS, ওয়েব ডেস্ক : মহাকাশ ক্যুইজ়’-এর আয়োজন করেছিল ইসরো। সেই ক্যুইজ়ের ফলাফলের ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হয়েছে সারা দেশের ৬০ জন পড়ুয়াকে। পুরস্কার হিসেবে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসে ইসরোর চন্দ্রযান ২-এর চাঁদে অবতরণ দেখার সুযোগ পাবে বলে জানা গেছে। ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটিতে পা রাখার কথা রয়েছে চন্দ্রযান ২-এর।

দু’দিন আগেই, ৩০ অগাস্ট সন্ধেবেলা চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান ২। এগিয়ে যায় চতুর্থ কক্ষপথের দিকে। সফল হয় সেই ইনসারশন-ও। মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এর পরে চূড়ান্ত বা পঞ্চম কক্ষপথে পৌঁছতে সময় লাগবে আর মাত্র দু’দিন। হিসেব মতো, আজই সেই দিন। এই ইনসারশন সফল হলেই মহাকাশ চর্চার ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেলবে ভারতের এই অভিযান। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানান, চাঁদের চতুর্থ কক্ষপথের ১২৪x১৬৪ কিলোমিটার পরিধিতে ঢুকে গিয়েছে চন্দ্রযান ২। চাঁদ থেকে তার দূরত্ব আর মাত্র ১২৪ কিলোমিটার। আর বর্তমান অবস্থান থেকে দক্ষিণ মেরুর দূরত্ব প্রায় ১৬৪ কিলোমিটার।

Ad

তবে চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক অবস্থান নিতে আরও ৯ দিন সময় লাগবে চন্দ্রযানের। ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘ম্যানজিয়াস-সি’ এবং ‘সিম্পেলিয়াস-এন’ ক্রেটারের মাঝের সমতলভূমিতে আলতো করে নামবে ল্যান্ডার বিক্রম। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবনের কথায়, “আগামী ৯ দিন সময়টা বেশ উদ্বেগের। চন্দ্রযান ২ চন্দ্রপৃষ্ঠে জমিয়ে না বসা অবধি, স্বস্তি নেই ইসরোর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের।”

এর পরে ল্যান্ডার বিক্রম মারফত পাঠানো চাঁদের ভিডিও প্রথমে আসবে ইসরোর কন্ট্রোল রুমে। তার পরিস্থিতি কেমন থাকবে, ঝুঁকি সবটা এড়ানো সম্ভব হল কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হবে তার পরে। সেই ভিডিও পরীক্ষা করার পরে সরাসরি সম্প্রচার হবে ইসরোর কন্ট্রোল রুম থেকে। এক অর্থে সেই লাইভ দেখানো হবে বিক্রমের মাধ্যমেই। কেবল মিনিট পনেরো-কুড়ি সময় লাগবে অতিরিক্ত।

সেই মাহেন্দ্র ক্ষণেই ইসরোর দফতরে হাজির থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তাঁর সঙ্গে থাকবে, ক্যুইজ়ে জেতা ৬০ জন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। তাদের নিয়েই ইসরোর কন্ট্রোল রুমে বসে মোদী দেখবেন সেই লাইভ ভিডিও। অনুমান করা যাচ্ছে, ভিডিওয় দেখা যাবে চাঁদের মাটি, গহ্বর, উপত্যকা, পাহাড়। ইসরো বলছে, সব ঠিকঠাক থাকলে এখনও পর্যন্ত সব চেয়ে রোমাঞ্চকর ও রোমহর্ষক হতে চলেছে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁদে নামার এই ‘লাইভ’।

তবে এই প্রক্রিয়ার শুরুটা মোটেই সহজ হবে না। কারণ অরবিটার থেকে ল্যান্ডার বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে নানা পরীক্ষার পালা। অরবিটার প্রথমে কিছু ছবি বা ভিডিও তুলে ইসরোকে পাঠাবে। অবতরণের জায়গার ছবি দেখে মাটি ও গহ্বর পরীক্ষার পরে নামার ছাড়পত্র দেবে ইসরো।

তার পরে শুরু হবে বিক্রমের কাজ। কক্ষপথ পেরিয়ে সে চলে আসবে চাঁদের মাটির কাছাকাছি। একেবারে নামার মুহূর্তটি সব চেয়ে ভয়ের। আগেই বলা হয়েছে তার জন্য বাড়তি সুরক্ষা নেওয়া হচ্ছে। নামার আগে আরও এক দফা পরীক্ষা হবে পরিস্থিতির।

বিক্রমের তলায় পাঁচটি ইঞ্জিন লাগানো রয়েছে। কিন্তু নামার সময়ে তার মধ্যে চারটির জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আর চাঁদের মাটি থেকে অনেক ধুলো উড়লে সমস্যা হতে পারে নামতে। তবে পঞ্চম ইঞ্জিনটি চালিয়ে তার নামার জায়গার ধুলো সরিয়ে নেবে বিক্রম। ইসরো বলছে, এটা খুবই উদ্বেগের কর্মকাণ্ড। এই গোটা প্রক্রিয়ার সবটাই ভিডিও করে পাঠাবে বিক্রম, যা লাইভ দেখাবে ইসরো।

আরও পড়ুন