সুশান্তের মৃত্যু রহস্যে বিজেপি যোগ, তদন্তের দাবি সরকারের

UBG NEWS, মুম্বই, ৩০ অগাস্ট : অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্যের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল মহারাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে।

রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ ছিল, অভিনেতার মৃত্যুতে এখন যে মাদক যোগের তথ্য মিলছে, সেই  বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেইনি মুম্বই পুলিশ। এবার বিজেপিকে সেই মাদক যোগেই ঘায়েল করতে চাইছে মহারাষ্ট্র সরকার।

সুশান্তের বন্ধু বলে দাবি করা প্রযোজক সন্দীপ সিংয়ের বিরুদ্ধেও মাদক রাখা ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বায়োপিকের প্রযোজক ছিলেন এই সন্দীপ। তাঁর সঙ্গে বিজেপির অনেক নেতার সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি। এই অবস্থায় বিজেপির সঙ্গে সন্দীপের যোগ সিবিআইয়ের খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবন নিয়ে ছবি করেছেন সন্দীপ সিংহ। বিজেপির সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক, তা খতিয়ে দেখুক সিবিআই। একই সঙ্গে বলিউডের মাদক যোগ নিয়েও তদন্ত হোক। এ ব্যাপারে অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সিবিআইকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করব।’

মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকা তিন দল কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনার অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে মাদক যোগের বিষয়টি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্যই কেন্দ্র সিবিআই তদন্তের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। কংগ্রেসের মুখপাত্র শচীন সাওয়ান্ত জানিয়েছেন , এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে। সন্দীপ সিংকে মাদক যোগ নিয়ে প্রশ্ন করুক সিবিআই।

শচীন প্রশ্ন তোলেন ‘বিজেপি ও বলিউডের যোগের কথা সবাই জানে। তাহলে কী কাউকে বাঁচানোর জন্য সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?’ তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘বলিউডে এত নামীদামী প্রযোজক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর বায়োপিকের প্রযোজনা সন্দীপ সিং কেন করলেন?’ যদিও সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে দলের কোনও যোগ থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মহারাষ্ট্র বিজেপির মুখপাত্র কেশব উপাধ্যায়।

তাঁর পালটা দাবি, শিবসেনার প্রয়াত সুপ্রিমো বাল ঠাকরের বায়োপিকের জন্যও সন্দীপ সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ঠাকরের পুত্রবধূ স্মিতা ঠাকরে। উল্লেখ্য, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর তাঁর ফ্ল্যাট, হাসপাতাল-সব জায়গাতেই দেখা গিয়েছিল সন্দীপ সিংকে। তিনি দাবি করেছিলেন, সুশান্ত তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, সুশান্তের সঙ্গে তাঁর এক বছর কথা হয়নি। এছাড়া সন্দীপের বেশ কিছু কার্যকলাপ সন্দেহজনক বলে অভিযোগ উঠেছে।