এবার ‘অন্নদাতা’-র ভূমিকায় দেবদূত সোনু সুদ, গোটা গ্রামকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিলেন কাঁধে

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : বিপদে তিনি ত্রাতা, তিনি যেন সাক্ষাৎ ফারিস্তা। করোনা আবহে একের পর এক নজির গড়েছেন সোনু সুদ। তাঁর নামের আগে বসানোর মতো বিশেষণ শেষ হয়ে গেলেও, সমাজে তাঁর অবদানের তালিকা ফুরোবে না!

এবার তাঁকেই দেখা গেল অন্নদাতার ভূমিকায়। একজন, দুজন নন, একটা গোটা গ্রামের মানুষের খাবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সোনু সুদ।

অভিনেতা সোনু সুদ এক রিয়েলিটি শো-র বিচারক হিসেবে আসেন। আর সেখানেই এক প্রতিযোগী কাতর স্বরে তাঁর গ্রামের কথা জানান সোনুকে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউন ৭ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশের সরকার। করোনা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হলেও দিন-আনি, দিন-খাই লোকেদের বাস যে নিমাচ গ্রামে, সেখানকার লোক পড়েন চরম সমস্যায়। দু-বেলা দুমুঠো খেতে পর্যন্ত তাঁরা পাচ্ছেন না বলে সোনুর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিয়েলিটি শো-র প্রতিযোগী উদয়। যিনি নিজেও পেশায় দিনমজুর।

তার পরই সোনু তাঁকে জানান, “উদয় আমি তোমার মাধ্যমে তোমার সমস্ত গ্রামবাসীকে বলতে চাই ওখানে একমাস, দু’মাস-ছ’মাস যতদিনই লকডাউন হোক না কেন, সকল গ্রামবাসী যাতে রেশন পায় সেই ব্যবস্থা আমি করব। গ্রামবাসীদের চিন্তা করতে বারণ করো। তোমার গ্রামের কেউ অভুক্ত থাকবে না, সে লকডাউন যতদিনই চলুক না কেন।”

করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সোনু। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেন মানুষের জন্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো, খাবার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। এবছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলেও তিনি ও তাঁর সংস্থা পুরোদমে কাজ করছেন।

এরমধ্যেই সোনু নিজেও করোনার শিকার হন, তবে সেই যুদ্ধ জিতে ফিরে এসেছেন। আর তার মধ্যেই গতকাল তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের কাছে অনুরোধ করেন যে সকল বাচ্চারা করোনার কারণে নিজের বাবা মা কে হারালো, তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব যেন সরকার নেয়।

কিছুদিন আগেই নিজের ফোনে ক্রমাগত আসতে থাকা সাহায্য প্রার্থনার ভিডিও প্রকাশ করে সোনু বলেছিলেন, “চেষ্টা করছি যতটা করা সম্ভব। যাঁদের কাছে পৌঁছতে পারছি না, তাঁদের কাছে মন থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”