করোনার জাল প্রতিষেধক নিয়ে হাজির হল একদল প্রতারক, ৩৫০০০ টাকায় বিকোচ্ছে বাজারে

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : নোভেল করোনা ভাইরাসের নাম শুনলেই এখন পিলে চমকায় মানুষের। নিত্যদিন এই ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের লক্ষাধিক মানুষ। এমনকি দৈনিক এই ভাইরাসের কবলে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। ফলে এই মুহূর্তে করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি দরকার করোনার টিকা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবার বাজারে জাল প্রতিষেধক নিয়ে হাজির হল একদল প্রতারক।

ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে।মহারাষ্ট্রে হু হু করে ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। ফলে ফের একবার সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে হেঁটেছে মহারাষ্ট্র সরকার। ১৫ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে আবার টান পড়েছে করোনা টিকার ভাঁড়ারে।

এই অবস্থায় ফায়দা লুটতে বাজারে হাজির প্রতারকের দল। রেমিডিসিভিরের খালি বোতল জোগাড় করে তাতে প্যারাসিটেমলের সিরাপ ভরে দিব্যি করোনা প্রতিষেধক বলে চালাচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, মানুষকে সুরক্ষিত করার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এক একটি জাল প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন।

সম্প্রতি গোপন সূত্রে এই কথা জানতে পারে মহারাষ্ট্র প্রশাসন। ঠগদের সেই দলকে তৎপর হয় পুলিশ। এরপর এক করোনা রোগীকে ওই জাল ইঞ্জেকশন বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা।পুলিশ জানা গিয়েছে, প্রতারক দলের পাণ্ডার নাম দিলীপ গায়কোয়ার।

পুলিশের জেরায় সে জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে সহজে টাকা কামানোর কথা চিন্তা করে সে প্রথমে রেমিডিসিভির ইঞ্জেকশন কিনে বেশি দামে বিক্রি করার কথা ভাবে। কিন্তু তার সেই প্ল্যান কাজ না করায় বিকল্প পথ বেছে নেয় সে। তার এক পরিচিত কোভিড সেন্টারে কাজ করায় তাকে কাজে লাগায় দিলীপ। সেই ব্যক্তি কোভিড সেন্টার থেকে রেমিডিসিভিরের খালি বোতল জোগাড় করে দিলীপ গায়কোয়ারকে দিত।

এরপর দিলীপ সেই খালি বোতলে প্যারাসিটেমলের সিরাপ ভরে বাজারে বিক্রি করে লোক ঠকানো শুরু করে।করোনা পরিস্থিতিকে অসৎ কাজে লাগানো চলছে কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতেও। প্রতিষেধকে চাহিদাকে পাখির চোখ করে ব্যাপক পরিমাণে কালোবাজারি চলছে সেখানে। বেআইনি ভাবে রেমিডিসিভির ইঞ্জেকশন মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে এবার বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ জনকে। এক একটি রেমিডিসিভির ইঞ্জেকশন বিক্রি করা হচ্ছে ১০ হাজার ৫০০ টাকায়।

এছাড়াও কালোবাজারির অভিযোগ এসেছে মোদিরাজ্য গুজরাতের সুরাট থেকেও। সেখানে একদল লোক বেআইনি ভাবে রেমিডিসিভির ইঞ্জেকশন মজুত করে ৯০০ টাকায় বিক্রি করছিল। অভিযোগ পেয়ে সেই দলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।