মহাকাশে বড় সাফল্য ভারতের, জেনে নিন ASAT-এর ইতিবৃত্ত। UBG NEWS

UBG NEWS, নিউজ ডেস্ক : বিশ্বের দরবারে ফের একবার নজির গড়ল ভারত। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে উপগ্রহ ধ্বংসকারী মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ ও মহাকাশে থাকা উপগ্রহ ধ্বংস করে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে ডিআরডিও’র এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল বা ASAT।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ASAT এর কিছু খুঁটিনাটি:

Loading…

ASAT মিসাইল কী?
ASAT হল একধরণের স্পেস ওয়েপন। মিলিটারির কাজে কোনও উপগ্রহ ধ্বংসের কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু দেশ এই ASAT ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ধরণের ASAT মিসাইল ব্যবহার করে নি। এখনও পর্যন্ত আমেরিকা, রাশিয়া, চিন ও ভারতই সফলভাবে এই ASAT মিসাইলের উৎক্ষেপণ করতে পেরেছে।
ASAT-এর ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার সম্পর্কের শীতলতা আসে। ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়েই নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে বিভিন্ন মিসাইল বানানোর দিকে ঝোঁক দেয় দুই দেশই। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অবশ্য ASAT মিসাইলের প্রতি নজর কোনও দেশই খুব একটা দেয় নি। তবে তার আগে শত্রু দেশের গুপ্তচর মিসাইলকে আটকানোর জন্য ASAT লেজারের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা ব্যপকভাবে শুরু করে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই ASAT লেজারের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের উপগ্রহকে বেশ কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় করে রাখা যেত। অবিভক্ত রাশিয়ার এই অগ্রগতি দেখে থেমে থাকে নি আমেরিকাও। ১৯৮২ সালের পর আমেরিকা প্রথম Vought ASM-135 ASAT মিসাইল তৈরি করে। একটি এফ-১৫ বিমান ওই মিসাইল বহন করার জন্য বিশেষভাবে বানানো হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে ওই বিমানে করে প্রথমবার ASAT মিসাইল লঞ্চ করা হয়। এফ-১৫ বিমানটি ৩৮ হাজার ফুট উপরে গিয়ে ওই মিসাইলটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। এরপর ২০০৮ সালে ইউ এস নেভি তাদের যুদ্ধ জাহাজ থেকে ASAT মিসাইল লঞ্চ করে তাদের একটি উপগ্রহ ধ্বংস করে। ২০০৭ সালে চিন মোবাইল ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার ভেহিকেল থেকে প্রথমবার ASAT মিসাইল উৎক্ষেপণ করে। এছাড়া ইসরায়েলও এই মিসাইল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। জানা গিয়েছে, ইসরায়েলের অ্যান্টি ব্যালেস্টিক মিসাইল অ্যারো ৩ বা হেটজ ৩ কে ASAT মিসাইল রূপে ব্যবহার করা হতে পারে।
ভারতের মিশন শক্তি
বুধবার নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে এই ASAT মিসাইল উৎক্ষেপণের কথা বলেন। এই মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিশন শক্তি’। যদিও এই ASAT মিসাইল তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটাই পুরনো। ৯৭তম ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে DRDO -এর তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল রুপেশ প্রথমবার ভারতের এই ASAT মিসাইল তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর ২০১০ সালে DRDO -এর ডিরেক্টর জেনারেল ভিকে সরস্বত জানিয়েছিলেন, ভারত এই মিসাইলের সব বিল্ডিং ব্লক বানিয়ে ফেলেছে। অবশেষে বুধবার নরেন্দ্র মোদী ASAT মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ ও কার্যকরণের কথা ঘোষণা করেন।