Ad
আলিপুরদুয়ারদিল্লিরাজনীতিরাজ্য

বাংলায় এনআরসি প্রয়োজন নেই, এনআরসি নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে কথা মমতার

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

নিউজ ডেস্কঃ অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ গিয়েছে ১৯ লক্ষের নাম৷ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আবার পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে বিজেপি৷ পাল্টা মমতাও জানান, বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না৷

Ad

বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি নিয়ে কোনও কথা হয়নি। মমতার বক্তব্য ছিল, “ওটা তো অসমের ব্যাপার!” তারপর তৃণমূলের অন্দরেই এনআরসি ইস্যুতে দলগত অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না। তার আগেই এনআরসি ইস্যুতে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নামলেন মমতা।

নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই নর্থ ব্লকে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় এনআরসি’র প্রয়োজন নেই। অমিত শাহকেও যে তিনি বিষয়টি বলে দিয়েছেন, তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই মতো বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে সময় দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তবে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুক্ষণ আগেই এদিন নর্থ ব্লকে পৌঁছে যান তিনি। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের আগেই সাংবাদিকদের একটি চিঠি দেখিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে দেখা যায় সেই কাগজ তিনি অমিতের হাতে তুলে দিয়েছেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সেই চিঠির বিষয়টি খোলসা করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই একটি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই আবহে দিল্লি এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ৷ অনুমান ছিল, এই বৈঠকে এনআরসির কথা উঠবে৷ সেটাই হয়েছে৷ বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অসমের এনআরসি নিয়ে কথা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, ১৯ লক্ষের মধ্যে অনেক বাঙালি, হিন্দিভাষীর নাম বাদ গিয়েছে৷ বৈধ কোনও নাগরিকের নাম বাদ না যায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে৷ তাঁদের আরও একবার সুযোগ দেওয়া দরকার৷ চিঠি দিয়ে এনআরসি নিয়ে নিজের বক্তব্য অমিত শাহকে জানান মমতা৷

তাঁর কথায়, ‘আমি একটা চিঠি দিয়েছে। এনআরসিতে অসমে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। যেখানে বাংলা ভাষী, হিন্দি ভাষীদের পাশাপাশি গোর্খারাও আছে। তাদের আবার একবার সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁরা কোথায় যাবেন কী করবেন?’ স্বাধীন ভারতে নতুন করে যেন কাউকে পরাধীন না হতে হয় সেই বিষয়টিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন মমতা। তিনি জানান, তাঁকে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুধু অসম নয়, বাংলায় যাতে এনআরসি না হয় সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নর্থ ব্লকে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলায় এনআরসির কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। মমতা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির হবে এমন কথা তো উনি বলেননি। আমি বলেছি আমাদের ওখানে এনআরসির প্রয়োজন নেই। বিহারের নীতিশ কুমারও বলেছেন সে রাজ্যে এনআরসির প্রয়োজন নেই।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার বিশ্বাস উনি ইতিবাচক ভূমিকা নেবেন।’

বৃহস্পতিবার নর্থ ব্লকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে মমতা বলেন, “এনআরসি নিয়ে চিঠি দিয়েছি। বলেছি, বহু বাংলা ও হিন্দিভাষী মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বহু হিন্দু, মুসলিম ও গোর্খার নাম। এটা ঠিক নয়। যাঁরা প্রকৃত ভারতীয় তাঁদের নাম যেন তালিকায় থাকে।”

গত বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পদযাত্রা করেছিলেন মমতা। তোপ দেগেছিলেন দিদি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, এনআরসির মাধ্যমে বাংলা থেকে দু’কোটি মানুষকে তাড়ানো হবে। এর জবাবে মমতা পাল্টা হুঁশিয়ারিতে বলেন, দু’কোটি তো পরের কথা, আগে বাংলার দু’জন মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক!

গত বছর এনআরসি-র শুরুর সময়েই প্রতিনিধি দলকে অসমে পাঠিয়েছিলেন মমতা। তাঁদের ঢুকতে না দেওয়ায় দিল্লি গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এর কাছে। কিন্তু কাল মমতার ‘ওটা তো অসমের ব্যাপার’ মন্তব্যে অনেকেই নরম মনোভাব দেখেছিলেন।

দলের ভিতরেও অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, এই রকম একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে দুম করে অবস্থান বদল করলে মুশকিল। কারণ বাংলার উদ্বাস্তু কলোনিগুলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এনআরসি আতঙ্ক। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বুঝতে পেরেই কালকের এনআরসি ক্ষততে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কর্মীদের কাছে দলগত অবস্থান পরিষ্কার থাকবে তো?

আরও পড়ুন