হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত এক বিজেপি নেতা, সৎকার করল তৃণমূলের নেতারা

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : ভোটের আগে তো ছিলই, ভোটের পরেও ছবি খুব একটা কিছু বদলায়নি। বিদ্বেষ, হানাহানি, খুনোখুনি সবই চলেছে। সিংহভাগ ক্ষেত্রে এর শিকার হয়েছে তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মী ও সমর্থকেরা।

অথচ মোদি সরকারের পাঠানো চার সদস্যের কেন্দ্রীয় দল কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মী কিংবা কোনও সমর্থকের বাড়ি যাননি যারা বিজেপির হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা কার্যত নিরপেক্ষতা আর আইনকে বিসর্জন দিয়ে মোদি-শাহের হুকুমমতো বিএজপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে চলেছেন।

এই যখন অবস্থা তখন চরম বিপরীত ও সৌজন্যতার ছবি দেখা গেল এই বাংলার বুকেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত এক বিজেপির নেতার সৎকার করলেন এলাকারই তৃণমূল নেতারা, আর সেটাও এই কোভিড কালে। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রাম থানার চাকতা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানা গিয়েছে, চাকতা গ্রামের বাসিন্দা তথা বিজেপির নেতা অনুপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই মারা যান। তিনি ওই গ্রামের বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রীনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর এলাকায় অনেকেই মনে করেন কোভিডে মৃত্যু হয়েছে অনুপবাবুর।

সেই আতঙ্কে প্রতিবেশী, আত্মীয়রা কেউ তাঁদের বাড়ি্র ছায়াও মাড়াননি। এমনকি গ্রামের বিজেপির কর্মী সমর্থকেরাও কেউ তাঁদের বাড়িতে আসেননি। এই অবস্থার মধ্যেই সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। সারারাত মৃতদেহ আগলে বসে থাকেন রীনাদেবী। শেষে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল কর্মীই ওই বিজেপি নেতার মরদেহ সৎকারে এগিয়ে আসেন। কার্যত তাঁদের সহযোগীতাতেই প্রায় কুড়ি ঘন্টা পর ওই বিজেপি নেতার দেহ কাটোয়ার উদ্ধারণপুর শ্মশানে সৎকার করা হয়।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে আনখোনা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বুদুন শেখ ঘটনার কথা জানতে পারেন। তারপর তিনি এলাকার তৃণমূলের কর্মীদের নির্দেশ দেন যাতে মরদেহ সৎকার করা হয়। এরপর চাকতা গ্রামের কয়েকজন তৃণমূলকর্মী ওই বিজেপি নেতার বাড়িতে যান। দেহ সৎকারে তৎপর হন তাঁরা।

শেষপর্যন্ত উর্ধারণপুর শশ্মানঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মৃতের জামাই দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের। তিনি বলেছেন, ‘এই সহযোগিতা না করলে দেহ সৎকার করাই সম্ভব হত না।’

এই ঘটনায় কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনওয়াজ বলেন, ‘আমাদের দল কতটা মানবিক এটা তারই প্রমাণ।’ যদিও বিজেপির বর্ধমান পূর্ব(গ্রামীণ) জেলা কমিটির সহ সভাপতি অনিল দত্ত জানিয়েছেন, ‘ওই গ্রামে আমাদের কর্মীরা ভোটের ফলঘোষণার পর থেকেই গ্রামছাড়া রয়েছেন। তাই তাঁরা যেতে পারেননি। শেষে গ্রামের কয়েকজন যুবক অনুপবাবুর দেহ সৎকারে সাহায্য করেন।’