ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে অসন্তোষ মমতার, ১ মে থেকে বাংলায় ১৮ ঊর্ধ্বদের কোভিড টিকাকরণ হচ্ছে না

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : দু’দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সিরা এবার কোভিডের ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। তাঁদের কোভিড টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে ১ মে থেকে।

কিন্তু বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলায় ১৮ ঊর্ধ্বদের কোভিড টিকাকরণ ১ মে থেকে শুরু হবে না। তা শুরু হবে ৫ মে থেকে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি থেকে রাজ্য সরকারকে সরাসরি কোভিড ভ্যাকসিন কেনার ছাড়পত্র কেন্দ্র দিয়েছে।

এত দিন কেন্দ্র সেরাম ও ভারত বায়োটেকের থেকে ভ্যাকসিন কিনে রাজ্যগুলিকে সরবরাহ করছিল। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৯৩ লক্ষ ডোজ টিকা রাজ্যের মানুষকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘রাজ্য সরকার আরও ১ কোটি ডোজ টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১ কোটির বেশি ডোজ রাজ্যে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে থেকেই ৯৩ লক্ষ ডোজ ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, প্রবীণ নাগরিক ও কোমর্বিডিটি থাকা রোগীদের দেওয়া হয়েছে। ৫ মের আগে আরও কম করে ১০ লক্ষ মানুষের টিকাকরণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে সেরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তারা রাজ্য সরকারগুলিকে প্রতিটি ভ্যাকসিন ডোজ ৪০০ টাকা দামে বিক্রি করবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কোভিড ডোজ দেবে ৬০০ টাকা দরে। আর কেন্দ্রীয় সরকারকে টিকা দেবে ১৫০ টাকা দরে। দামের এই বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এটা ব্যবসার সময় নয়। কেন্দ্র সরকারকে ১৫০ টাকায় ভ্যাকসিন দেবে, আর রাজ্য সরকারকে ৪০০ টাকায় দেবে— তা হবে কেন?’ এ ব্যাপারে মমতা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন বলে জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি এও জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার আপাতত ১০০ কোটি টাকার একটি ভ্যাকসিন তহবিল তৈরি করবে। কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে ইতিমধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কোভিডের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও সংক্রমণের কবলে পড়ছেন কেউ কেউ।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতাতেও এরকম রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। কেন তা হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, বাংলাতেও অক্সিজেনের সংকট রয়েছে। তবে তা মোকাবিলার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

সেই সঙ্গে অক্সিজেনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলায় কোভিড অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩৪৮৮ জন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৯০৫ জন কোভিড রোগী। তিনি বলেছেন, অযথা আতঙ্ক ছড়ানো বা ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সহিষ্ণুতার সঙ্গেই এগোতে হবে। এটা একটা ঝড়ের মতো। এই ঝড়ও থেমে যাবে।