‘পা ধরছি, একটু বুঝুন। আপনি মাস্ক পরলে আমিও বাঁচব, আপনিও’

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : পায়ে পড়াটাই হয়ত বাকি ছিল! সেটাও করলেন কিছু মানুষ। মাস্ক পরাতে গিয়ে রীতিমতো পায়েই পড়ে গেলেন এক ব্যক্তি। বললেন, ‘পা ধরছি, একটু বুঝুন। আপনি মাস্ক পরলে আমিও বাঁচব, আপনিও।’ মানুষকে মাস্ক পরাতে বাধ্য হয়ে শেষে পায়েই পড়তে হল।

শুক্রবার  শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে মানুষকে ঘুরতে দেখেই সোজা পিপিই কিট পরে পায়ে পড়ে যেতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে৷ যাঁরা মাস্ক পড়েননি তাঁরা প্রথমে থতমত খেয়ে গেলেও পরে বুঝতে পারলেন মাস্ক না পরার জন্য এভাবে পায়ে পড়েছেন ওই ব্যক্তি। আর তখনই লজ্জা পেয়ে পকেট থেকে মাস্ক বের করে পড়লেন অনেকে।

আর যাঁদের মাস্ক নেই তাঁরা কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। বারবার সচেতনতা প্রচার করলেও এখনও শিলিগুড়ির রাস্তায় মাস্ক ছাড়া দিব্যি এদিক-ওদিক ঘুরছেন কিছু মানুষ। আর তাতেই চিন্তায় পড়েছেন সকলে। প্রশাসনের চেষ্টার অভাব নেই। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছিলেন বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির। এ দিন শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বাজার ও বিধান রোডে প্রচারে নামা হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির কর্মকর্তা অজয় টেন্ডন পিপিই পড়ে সেখানে ঘোরেন। আর যখনই দেখেন কাউকে মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে, সোজা দৌড়ে গিয়ে তাঁদের পা ধরে ফেলেন। আবেদন করে বলেন, ‘মাস্কটা পড়ে নিন। এরপর ডাক্তাররাও আর বাঁচাতে পারবেন না। ডাক্তারও কম পড়ে যাবে। তাই এখনও সময় আছে বুঝে যান।’

তবে বাদ যায়নি ব্যবসায়ীরাও। বহু দোকানে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা মাস্ক ছাড়াই ব্যবসা করছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আবার কয়েকজন মাস্ক পড়লেও তা নাকে-মুখে নেই। গলায় ঝুলছে। পাশাপাশি বিধান রোডে পথচলতি মানুষ, টোটো-রিকশা চালকদেরও পা ধরে মাস্ক পড়ার কথা বলা হয়। অজয় টেন্ডন বলেন, ‘পা ধরলে অনেকে লজ্জায় মাস্ক পড়বেন। এভাবেই এখন মানুষকে সচেতন করতে হবে। ভয়াবহ দিন আসছে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করছি বাড়ি থেকে বের হলেই মাস্ক পড়ুন। ডাক্তার রাতারাতি তৈরি হয়না। কিন্তু রোগ বেড়ে যায়।’