কোচবিহার

দিনহাটায় কি উদয়নই তৃণমূল প্রার্থী! নাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথকে চাপে রাখতে দিনহাটা উপনির্বাচনে ভেটাগুড়ি থেকেই নতুন মুখ তুলে আনবে তৃণমূল! জোর জল্পনা কোচবিহার জেলা জুড়ে

দিনহাটা, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ দিনহাটা উপনির্বাচনে উদয়ন গুহই কি রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী হচ্ছেন? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচবিহার জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে।

স্যোসাল মিডিয়ায় কেউ উদয়ন গুহই প্রার্থী হতে চলেছেন বলে প্রচার করছেন, আবার কেউ বলেছেন এবার দিনহাটায় প্রার্থী বদল করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই নিয়ে চলছে জোড় তরজাও। সব ঠিকঠাক থাকলে ভবানীপুরে ভোট গ্রহণের পরের দিন অর্থাৎ ১ অক্টোবর বাকি উপনির্বাচনের আসন গুলোর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব। আর দলীয় ভাবে ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে দিনহাটায় জোড়া ফুলের প্রতীক কার ভাগ্যে জুটতে চলেছে।

বিজেপির দাপুটে নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ি দিনহাটার ভেটাগুড়িতে। গত বিধানসভা ভোটে তিনি প্রার্থী হয়ে তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়ে জিতেও ছিলেন। পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তাফা দেন। সেজন্য দিনহাটায় উপনির্বাচন হচ্ছে। খোদ নিজের বিধানসভা এলাকার উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে জেতানো রীতিমত চ্যালেঞ্জের। আর সেই জায়গা থেকেই নিশীথ প্রামাণিককে আরও বেশি করে চাপে রাখতে চাইছে শাসক দল তৃণমূল। সেজন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ির এলাকা থেকে কাউকে এবারের দিনহাটা উপ নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারে বলে জেলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাড়ির এলাকা থেকে কাউকে প্রার্থী করা হলে বাড়তি চাপে তৈরি হবে। সেজন্য নিশীথের বাড়ির এলাকা ভেটাগুরিতে থাকা তার সাংগঠনিক ভিত্তি ভাঙতে নিশীথ প্রামাণিকের গড় ভেটাগুড়ি থেকেই একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন মুখ তুলে নিয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে অন্দরের খবর।

তাছাড়া, দিনহাটায় তৃণমূলের অন্দরে যে গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে দলের মধ্য থেকে কোন গোষ্ঠীর একজনকে প্রার্থী করা হলে সেই গোষ্ঠী কোন্দল আরও প্রকট হবে। দলীয় চাপে পরে প্রকাশ্যে কেউ বিরোধিতা না করলেও ভিতরে থাকা ক্ষোভ ভোট বাক্সে প্রভাব যে ফেলবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এলাকা থেকে নতুন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে প্রার্থী করা হলে সেই বিরোধ একদিকে যেমন মিটে যাবে। অন্যদিকে নিজের এলাকাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চাপে রাখা সম্ভব হবে। আর সেটা না হলে যে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে নিশীথ প্রামাণিক একুশের বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছিল সেটার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।

Ad

এছাড়াও একুশের বিধানসভা ভোটে তৃতীয় বারের জন্য খমাতায় আসার পর থেকে তৃনমূলে নেতৃত্ব এক ব্যাক্তি এক পদ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। সেজন্য গত ভোটে প্রার্থী থাকা উদয়ন গুহকে দলের কোচবিহার জেলার চেয়ারম্যান করেছে। ফলে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর। এই পরিস্থিতিতে এখন দেখার শেষ পর্যন্ত চুলচেরা বিশ্লেষণের পর দিনহাটা উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে তৃণমূল, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উদয়ন বিরোধী শিবিরের এক তৃণমূল নেতার কথায়, “দল আগেই ঘোষণা করেছে এখন থেকে এক ব্যাক্তি এক পদের ভিত্তিতে তৃনমূল দায়িত্ব বণ্টন করবে। সেই ক্ষেত্রে উদয়ন গুহ দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তাই তাঁর টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু নতুন মুখ যদি আনা সেক্ষেত্রেও দলকে অনেকটা ভেবে সিধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ সঠিক সিধান্ত না নিলে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা স্বত্বেও দিনহাটা আসন হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে আমাদের।”

অন্যদিকে উদয়ন শিবিরের এক তৃণমূল নেতার কথায়, “দিনহাটায় উদয়ন গুহকেই প্রার্থী করতে হবে। আর তা হলে এখানকার কোন নেতাকর্মী সেটা মেনে নেবে না। প্রকাশ্যে বিরোধিতা হবে। ভোটের ফলাফলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে বর্তমানে শাসক দলের প্রার্থীর নাম নিয়েই দিনহাটার রাজনীতি সরগরম হয়ে রয়েছে।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]