‘আত্মরক্ষার্থে কোচবিহারে ১৫ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে জওয়ানরা, বিবৃতিতে জানিয়ে দিল CISF

UBG NEWS: শীতলকুচিতে নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় চার জনের মৃত্যুতে মোটেও অনুতপ্ত নয় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) শীর্ষ আধিকারিকরা। বরং গুলি চালানোর ‘ছেঁদো’ যুক্তি তুলে ধরে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ জওয়ানদের আড়াল করতে শনিবার দুপুরে আসরে নেমেছেন তাঁরা।

সকালে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের কণ্ঠে যে কথা শোনা গিয়েছিল, হুবহু সেই কথাই বলা হয়েছে সিআইএসএফের পক্ষ থেকে। ‘আত্মরক্ষার্থে’ মোট ১৫ রাউন্ড গুলি চালানোর কথা জানিয়ে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন পায়ের পরিবর্তে সোজা বুকে গুলি চালানো হল, তা নিয়ে টুঁ শব্দটি করা হয়নি ‘ট্রিগার হ্যাপি’ বাহিনীর পক্ষে।

শীতলকুচির ১২৫ নম্বর বুথে ভোট চতুর্থীর দিন সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘তকমাধারী’ সিআইএসএফের জওয়ানদের গুলিতে চার তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা বাদে মুখরক্ষায় আসরে নেমে গুলি নির্বিচারে গুলি চালানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক লম্বা বিবৃতি দেওয়া হয় সিআইএসএফের পক্ষ থেকে।

তাতে বলা হয়, ‘এদিন সকালে শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে গোলমালের খবর পেয়ে ক্যুইক রেসপন্স টিমের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর সুনীল কুমারের নেতৃত্বে সিআইএসএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ওই সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। উত্তেজিত জনতার একাংশ আচমকাই সিআইএসএফ  জওয়ানদের উপরে চড়াও হয়। গাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। ভিড় হঠাতে শূন্যে ছয় রাউন্ড গুলি চালানো হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উল্টে বুথে ঢুকে ভোটকর্মীদের মারধর শুরু করে দেয় উত্তেজিত জনতা। ভোটদানে বাধা দেয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যান আরও সিআইএসএফ জওয়ান। ভাঙচুরে ব্যস্ত উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ফের সাত রাউন্ড গুলি চালাতে হয়। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান।’