রাজ্যে ‘অবাধ ও নির্বিঘ্নে’ ভোটের জন্যই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইউবিজি NEWS: রাজ্যে ‘অবাধ ও নির্বিঘ্নে’ ভোটের জন্যই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার নিদান দিয়েছিলেন বলে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কমিশনকে দেওয়া জবাবে তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার এবং বৈধ ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে বলেছি।’ কমিশনকে খোঁচা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী ‘বঙ্গের রাজনীতিতে ঘেরাওয়ের অর্থ কী, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’ তৃণমূল সুপ্রিমোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।

গত ৭ এপ্রিল কোচবিহারের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে রাখার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী যেভাবে ‘খুল্লামখুল্লা’ বিজেপির হয়ে কাজ করছে তার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘সিআরপিএফ গন্ডগোল করলে ওদের ঘেরাও করে রাখবেন বাড়ির মেয়েদের একটা দল। আর একটা দল যাবে ভোট দিতে। শুধু ঘেরাও করলে ভোট দেওয়া যাবে না। এটাই বিজেপির পরিকল্পনা।’

তৃণমূল সুপ্রিমোর ওই মন্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠোকে বিজেপি। আর বিজেপির অভিযোগ পেয়েই যুদ্ধকালীন ত‍ৎপরতায় নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়ে শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা তলব করে নির্বাচন কমিশন।

ভোট চতুর্থীর দিন সকালেই নির্বাচন কমিশনকে নিজের জবাব পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। জবাবপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘সিআরপিএফের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া ও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে।

আমি বলেছি, ভোটাধিকারে বাধা পেলে বিশেষ করে মহিলারা, তাঁরা যেন গণতান্ত্রিকভাবে সিআরপিএফকে ঘেরাও করেন। প্রতিবাদের একটা মাধ্যম ঘেরাও। ১৯৬০ সাল থেকে বাংলার রাজনীতিতে ঘেরাও শব্দের প্রচলন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহের জন্য তা ব্যবহার হয়। আমি এটুকু বলতে চেয়েছি, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটটা দিতে পারে। গণতন্ত্র ও সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করাই আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য। আমি কোনও  নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করিনি।’