Ad
কোচবিহার

দিনহাটা ভোটের প্রচার রেখে কোচবিহারে তৃণমূল নেতৃত্বের বিজয়া সম্মিলনী, দলের অভ্যন্তরেই উঠছে প্রশ্ন

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

কোচবিহার, ২৩ অক্টোবরঃ দিনহাটা উপ নির্বাচনে যখন প্রচার অভিযান তুঙ্গে, ঠিক তখন বিজয়া সম্মিলনী করে কোচবিহারে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের একটা বড় অংশকে।

আজ কোচবিহার শহরের নৃপেন্দ্র নারায়ণ হাই স্কুলে কোচবিহার শহর তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে ওই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গিরীন্দ্র নাথ বর্মণ, সিতাই বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, প্রাক্তন বিধায়ক বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ, হিতেন বর্মণ, অর্ঘ্য রায় প্রধান, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভাপতি শুচিস্মিতা দেব শর্মা, কিষান ক্ষেত মজুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খোকন মিয়াঁ, আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি পরিমল বর্মণ এবং কোচবিহার শহর তৃনমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক সহ এক ঝাঁক তৃণমূল নেতৃত্ব।

Ad

৩০ অক্টোবর দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে প্রচার অভিযান চলবে। অর্থাৎ প্রচারের সুযোগ আর মাত্র ৪ দিন। এদিনও কোলকাতা থেকে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সায়নি ঘোষ ও তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্যের মত নেতৃত্ব দিনহাটায় এসে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছেন।

ঠিক সেই সময় দলের জেলা নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কোচবিহারে বিজয়া সম্মিলনী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দলের বহু কর্মীদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এদিন বিজয়া সম্মিলনী থেকে দলের সমস্ত শাখা সংগঠন সহ নেতা কর্মীদের দিনহাটা উপনির্বাচনের প্রচারে কাল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরিন্দ্রনাথ বর্মণ। শুধু তাই নয়, এরপর জেলা সভাপতি অনুমতি ছাড়া যাতে দলের কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিজয়া সম্মিলনী না করা হয়, সেটাও ঘোষণা করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি।

এদিন এই বিজয়া সন্মেলনী প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি গিরীন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, “সর্ব ভারতীয় তৃনমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোচবিহার শহর সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিজয়া সন্মেলনী। এই বিজয়া সন্মেলনীর মূল উদ্দেশ্য হল, আগামী ৩০ অক্টোবর কোচবিহার ৭ নং বিধানসভা দিনহাটা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এই উপনির্বাচনে যাতে সকল স্থরের নেতা নেতৃত্ব সহ, কর্মী সমর্থকেরা যাতে একত্রিত হয়ে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের জয় সুনিশ্চিত করতে ঝাপিয়ে পরতে পারে তারই বার্তা দেওয়া। এরপর জেলা সভাপতির অনুমতি ছাড়া জেলায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোন রকম কোন বিজয়া সন্মেলনী না করা হয়।”

দিনহাটা উপনির্বাচনে প্রচারের জন্য তৃণমূলের অনেক নেতা সিড্যুল না দিয়ে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে বলে দলের ভিতর থেকেই যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দুই একটি ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য সমস্যা হতে পারে, তবে সকলকেই সিড্যুল দেওয়া হয়েছে। যতটুকু ভুল বোঝাবুঝি ছিল, সেটাও এদিন এই বিজয়া সম্মিলনীতে কাল থেকে প্রচারে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়ে দূর করা হয়েছে।”

কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল নতুন কোন ঘটনা নয়, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়য়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ৯ আসনের মধ্যে ৭ টিতে পরাজিত হওয়ার জন্য তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকেই প্রধান কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

এবার উপনির্বাচনের প্রচারে জেলার সব থেকে প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে দক্ষিণবঙ্গে প্রচারের জন্য পাঠিয়ে দেওয়ার পিছনে অন্তর্ঘাত হওয়ার আশঙ্কাকেই প্রধান কারণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তারপরেও দিনহাটা উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হওয়ার ৪ দিন যখন বাকি, তখন কোচবিহার জেলা শহরের দলের প্রথম সারির নেতৃত্বকে নিয়ে বিজয়া সম্মিলনী করাকে তৃনমূলেরই একটা অংশ মেনে নিতে পারছেন না বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন