Ad
কোচবিহার

কোচবিহার জেলায় আদিবাসী জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি NEWS. কোচবিহারঃ আদিবাসী অসুর সম্প‍্রদায়ের খতিয়ান ভুক্ত জমি আত্মসাত করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা নজরুল হক ও তার ছেলে যুবনেতা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

মাথাভাঙ্গা ১নং ব্লক অন্তর্গত হাজরা হাট-১ গ্রামপঞ্চায়েতের দৈভাঙ্গী বালাসিতে হাইভোল্টেজ পাওয়ার গ্রীড স্থাপনের জন্য গত ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু হয়। সেইমত পাওয়ার গ্রীড নির্মাণ সংস্থা জমির মালিকানা চিহ্নিত করে জমির মালিককে পাওয়ার গ্রীড সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

Ad

পাওয়ার গ্রীড অধিগৃহীত স্থানে আদিবাসী অসুর সম্প্রদায়ের দেবারিকা রামভানু অসুরের ২.৫ একর জমি অবস্থিত। বতর্মান ওয়ারিশ সোমা অসুরের বয়ান অনুযায়ী দেবারিকা রামভানু অসুর বিগত ৫০ বৎসর পূর্বে পরলোক গমন করেছেন।

৫০ বছর পূর্বে মারা যাওয়া ব্যক্তি ২০১৬ সালে জমি একজন সাধারণ নাগরিক (জেনারেল কাস্ট) কে হস্তান্তর কেমন করে করতে পারেন ? যেখানে ভারত সরকারের আইন অনুযায়ী সাধারণত একজন তপশীলি উপজাতি ব্যক্তির জমি একজন সাধারণ নাগরিক (জেনারেল কাস্ট) ক্রয় করতে পারেন না।

এই বিষয়ে বিতর্কিত জমির উত্তরসূরী সোমা অসুর বলেন,  আমার ঠাকুরদাদা দেবারিকা রামভানু (অসুর) ৫০ বছর আগেই পরলোকগমন করেন। আমার ঠাকুরদাদার মাথাভাঙ্গা হাজরাহাট-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সেই বিতর্কিত জমি, যার উত্তরসূরী বর্তমানে দুই জন। ২০১৬ সালে সেই জমির মধ্যে পাওয়ার গ্রীড স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় পাওয়ার গ্রীড সংস্থার আধিকারিক আমাকে ওয়ারিশ সন্ধান করে যোগাযোগ করতে বলেন। খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নজরুল হক আমার যোগাযোগ করেন।

তিনি আমার পড়াশোনা না জানার সুযোগ নিয়ে সংস্থার কাছ থেকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেন। পরবর্তীতে আমি পাওয়ার গ্রিড সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি সংস্থার আধিকারিকের সাথে আমার যোগাযোগ করতে দেননি। এর পর আমি জানতে পারি ঠাকুরদাদা দেবারিকা রামভানু সমস্ত জমি করিমুল মিঞার কাছে বিক্রি করে দেন। সে ক্ষেত্রে আমার ঠাকুরদাদাকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ।

আমার প্রশ্ন কি করে একজন তপশীলি উপজাতির জমি একজন সাধারণ নাগরিক (জেনারেল কাস্ট) ক্রয় করতে পারেন। যে কিনা ৫০ বছর আগে পরলোক গমন করেছেন। জমি হস্তান্তরের সাক্ষী হিসাবে নজরুল হকের ছেলে কামাল হোসেনের নাম রয়েছে।

পরবর্তীতে বুঝতে পারি নজরুল হক, করিমুল মিঞা, কামাল হোসেন এরা আমার সাথে প্রতারনা করেছেন। বিষয়টি আমি প্রশাসনের কাছে নজরে আনি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেই অবৈধ দলিল বাতিল করার নির্দেশ দিলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণবশত সেটা এখনো বাতিল হয়নি। সোমা অসুরের অভিযোগ একজন অসহায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের পরিবার হওয়ার জন্যই তাকে এই ভাবে প্রতারিত হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন