Ad
কোচবিহার

দিনহাটায় ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবাজি, তীর ধনুক নিয়ে হামলা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

দিনহাটা, ৮ সেপ্টেম্বরঃ তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনে ব্যাপক বোমাবাজি, তীর ধনুক নিয়ে হামলা চালাল তৃণমূলেরই অন্য একটি গোষ্ঠীর কর্মী সমর্থকরা।

গতকাল মধ্যরাতে দিনহাটার ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেণুকা খাতুন বিবির বাড়িতে ওই বোমাবাজি হয়। বোমাবাজির পর ঘরের বাইরে থাকা একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে প্রধানের স্বামী সহ অন্যান্যরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে চালানো হয় তীর। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় দিনহাটা থানা ও দমকলে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Ad

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেণুকা খাতুন বিবির বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসেছেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসেরই কেয়কজন পঞ্চায়েত সদস্য। আগামী কাল ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তলবি সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন জেলা নেতৃত্বের নির্দেশ ছাড়া কোন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসা যাবে না। ওই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া তলবি সভায় অনাস্থা নিয়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্যরা যাতে পৌছাতে না পারে, তার জন্য প্রয়োজনে নেতৃত্বদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার একদিন আগেই রাতে যেভাবে প্রধানের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটল, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ কর্মী সমর্থক ছারাও ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে প্রধানের স্বামী বলেন, “সবে খাওয়া শেষ করে শুতে যাব। আচমকা বোমাবাজি শুরু হয়ে যায়। ওদের মধ্যে চার পাঁচজন অনাস্থা নিয়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্যের গলার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। এছাড়াও কিছু ঠিকাদারও ছিলও। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দেখে ঘর থেকে না বেরিয়ে থানায় খবর দিই। ঘরের বাইরে আগুন জ্বলতে থাকায় দমকলকেও জানাই। পরে পুলিশ ও দমকল আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, দলের জেলা নেতৃত্ব অনাস্থা করতে না দেওয়ার জন্য যে হুশিয়ারি দিয়েছেন, তাতে অনাস্থা নিয়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে, আর সেই কারণেই একটা আতঙ্কের সৃষ্টি করে যাতে প্রধান নিজেই তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান, সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যদিও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বরা দাবি করছেন, ওই ঘটনার পিছনে কোন গোষ্ঠী কোন্দল নেই। তবে কি কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা ক্ষতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন