Ad
উত্তরবঙ্গকোচবিহাররাজনীতিরাজ্য

তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে কোচবিহারে মৃত ১, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মৃতের বাড়িতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

কোচবিহারঃ সকাল সকাল দুবার বাজার করে এনেছিলেন তিনি, বলেছিলেন বাড়িতে এসে খাবো। তখন সকাল আটটা, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান দলীয় স্বার্থে, আর বাড়ি ফিরে হয়ে ওঠা হয়নি। দুপুরে তার জন্য রান্না করেছিলেন তার স্ত্রী, কিন্তু ততক্ষণে তার নিথর দেহ পড়েছিল রাস্তার পাশে। কোচবিহার জেলায় ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষের বলি আরও এক নিরীহ তৃণমূল কর্মী, নাম মজির উদ্দিন সরকার।

তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র, সবেমাত্র সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিল গোটা পরিবার তার মধ্যেই পুনরায় দুঃখ নেমে আসলো তাদের দুয়ারে। গোটা রাত স্বামীকে খাওয়ানোর জন্য রান্না করে অপেক্ষা করলেন স্ত্রী আজিজা আফরোজা বেগম। শুক্রবার সকালে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি, ডুকরে কেঁদে ওঠা চোখের ভাষায় বুঝতে অসুবিধা হয়নি তার বলিদান এর ইতিহাস।

Ad

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ মৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী মজির উদ্দিন সরকারের পরিবারের লোকেদের সাথে দেখা করতে শুক্রবার তার বাড়ি ছুটে গেলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। শুক্রবার সকালে তিনি স্থানীয় এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান । এদিন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের ছেলে সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বিজেপির কোচবিহার সভানেত্রী মালতীর রাভা ও সাংসদ নিশীথ প্রামানিক কে কটাক্ষ করে বলেন, ”এখানে বিজেপির যে জেলা সভানেত্রী রয়েছেন মালতি রাভা তিনি নিজের ফুলন দেবী হতে চাইছেন আর সাংসদ নিশীথ প্রামানিক হাজী মাস্তান হতে চাইছেন। এইভাবে সারাটা জেলায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু আমরা মনে করি সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করবে ”।

তিনি আরো বলেন, ” এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক । তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না”। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাতলাখাওয়া এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এরই মাঝে পড়ে মৃত্যু হয় ওই এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী মজির উদ্দিন সরকারের। এই সংঘর্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের চারটি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। এই খবর পেয়ে ওই রাতেই ভাঙচুরে কার্যালয় পরিদর্শনে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

দেখুন ভিডিও –

এদিন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মৃত ওই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনায় পরিবারের লোকেদের সমবেদনা জানান। একই সাথে এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত ওই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রী আজিজা আফরোজা বেগম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ আমার স্বামী কে যারা খুন করেছে সেই সব খুনিদের উপযুক্ত কঠিনতম শাস্তি চাই ” ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দোষীদের শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, ” দুঃখ প্রকাশ করার কোন ভাষা নেই। যেভাবে বিজেপির হার্মাদরা গান্ধি সংকল্প যাত্রার নামে সন্ত্রাস যাত্রা করছে বিভিন্ন জায়গায় তা ন্যাকার জনক। মানুষকে মারধর করছে খুন করছে । যেই গান্ধীজিকে ওরা খুন করেছিল আবার সেই গান্ধীজীর ছবি নিয়েই নিজেদের মাটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। ওদের এই নাটক মানুষ বুঝে গেছে। বৃহস্পতিবার পাতলাখাওয়া এলাকায় বিজেপির হার্মাদরা সংকল্প যাত্রার নামে এখানে আমাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে লুটপাট করেছে।

এখানে বহুদিনের পুরনো কর্মী দলের নেতা মজির উদ্দিন সরকারকে পিটিয়ে খুন করেছে। পাশাপাশি পুন্ডিবাড়ি মধুপুর এলাকায় দলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। বোমাবাজি করেছে, গুলি করেছে। এলাকার মানুষ ভয়ে রাত কাটাচ্ছে। আবার কোন সন্তান পিতৃ হারা হয় এই আতঙ্কে”।

আরও পড়ুন