কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে উদ্ধার তৃণমূল কর্মীরা রক্তাক্ত মৃতদেহ, খুন হওয়া দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ মন্ত্রী রবি’র

তুফানগঞ্জ, ২৪ ডিসেম্বরঃ কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের সিংগীমারি এলাকা থেকে উদ্ধার এক তৃণমূল কর্মীরা রক্তাক্ত মৃতদেহ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক রবীন্দ্র নাথ ঘোষ।

এদিন রবিবাবু জানান, গতকাল রাতে আমদের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ কর্মী খালেক মিয়াঁকে বিজেপির হার্মাদ বাহিনী তাকে খুন করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে দেয়। সাম্প্রতি, গতকাল বসপাড়ার দিকে বিজেপির একটা মিটিং ছিল সেই মিটিং-এ খালেক মিয়াঁকে ডাকলে সে না যাওয়ায় তাঁকে বিজেপির হার্মাদ বাহিনীরা খুন করে বলে অভিযোগ তুলেছে উন্নয়ন মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রবীন্দ্র নাথ ঘোষ।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, গত লোকাসভা নির্বাচনে তাঁরা জিতে গেছে বলে তাঁরা ভাবছে বিধানসভা নির্বাচনও তাঁরা বাংলা দখল করবে। কিন্তু তাঁরা যানে না যে লোকসভা বিধানসভা নির্বাচনের থেকে অনেক আলাদা।

সাম্প্রতি, দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে সায়ন্তন বসু হুমকি দিয়েছিল, বাংলাকে গুজরাট বানাবো, এবং যে সকল তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দেবে না তাঁদের গুলি করে খুন করা হবে। তৃণমূল নেতাদের শুধু দেহ গুনতে হবে। তাই তাঁরা মানুষকে খুন করে, এলাকায় সন্ত্রাসের সৃষ্টি করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এবং রবি বাবু বলেন, এরপর বিজেপি নেতারা নিজরা নিজেদের কর্মীকে খুন করবে বলে দাবি করেছেন রবি বাবু।

প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার ২ নং ব্লকের রামপুর জালধোয়া এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য  ছড়িয়েছে। মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম খালেক মিঞা। তাঁর দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিজেপির পতাকা। এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা পুরো ঘটনার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে তুলেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা। শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী, মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি মাঠে ওই ব্যক্তির মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। এরপরই দেহটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নাম জানাতে অনইচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, মৃত ওই বিজেপি কর্মীর দেহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এবং তাঁর পাশে বিজেপির পতাকাও ছিল। অতএব এই খুন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা করেছে বলেই চলে।

খুনের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে বক্সীরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত। খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।