দলে যাঁরা প্রথম থেকে ছিলেন, তাঁরা আছেন। কেউ কেউ জোয়ারে আসে আর ভাটায় চলে যায়। কিছু যায় আসে না।”: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কোচবিহার, ১৬ ডিসেম্বরঃ বাংলায় নীল সাদা বাড়ির দখলের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তাই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলা দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেই কারনে তারা ২৯৪টি আসনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাতে শুরু করেছে। কিন্তু তার মাঝে তৃনমূলের প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী তিনি মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে বিজেপিতে যাওয়ার জল্পনা।

কিন্তু সেই নেতা আগামী শনিবার মেদিনীপুরে অমিত শাহের হাত ধরে ওই সভায় বিজেপিতে যোগদান করবেন। এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশ হওয়ার পর নাম না করে জলপাইগুড়ির সভা থেকে কটাক্ষ করেছেন মমতা। আজ ফের কোচবিহারের জনসভা থেকে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “দলে যাঁরা প্রথম থেকে ছিলেন, তাঁরা আছেন। কেউ কেউ জোয়ারে আসে আর ভাটায় চলে যায়। কিছু যায় আসে না।”

একুশে নির্বাচনের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। আর সেখানেই দগত্যাগ করতে চলা শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করেই একহাত নিলেন। জানিয়ে দিলেন, কেউ কেউ দল থেকে বেরিয়ে গেলে কিছু যায় আসে না। একইসঙ্গে দলের ‘বেসুরো’নেতা-মন্ত্রীদেরও বুঝিয়ে দিলেন, থাকার ইচ্ছা না থাকলে দল থেকে বেরিয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের পাশে থেকেছে, বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করেছে, তাঁরা আগামিদিনেও থাকবেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ কেউ জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়। তাতে কিছু যায় আসে না। যারা প্রথম থেকে ছিল তারা আছে। তারাই লড়বে। জেনে রাখবেন, তারা চরিত্র বদল করতে পারে না। জামা কাপড় বদলানো যায়। কিন্তু আদর্শ বদলানো যায় না।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির একটি জনসভা থেকে নাম না করে শুভেন্দুর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “১০ বছর ধরে পার্টির হয়ে খেয়ে, সরকারে থেকে সরকারের সবটা খেয়ে ভোটের সময় এর সঙ্গে ওর সঙ্গে বোঝাপড়া করলে কিন্তু কিছুতেই আমি মেনে নেব না, এটা মনে রাখবেন।” এরপরই দলের ‘বেসুরো’

নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের উদ্দেশে যেন বার্তা দিলেন, “এই ১০ বছর ৩৬৫ দিন যাঁরা মানুষের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদেরই পরীক্ষা দিতে হবে। আর এমন পরীক্ষা দেবেন যাতে বিজেপি পরীক্ষা দিতে বসতেই না পারে। আর সিপিএম এবং কংগ্রেস বিজেপির হয়ে দালালি করতে না পারে।”