Ad
কোচবিহার

দলের সব গোষ্ঠীর নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে কোচবিহারে নিজের অফিস চালু করলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

কোচবিহার, ৮ সেপ্টেম্বরঃ দলের সব নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে কোচবিহার শহরে নিজের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ।

আজ কোচবিহার শহরের গোলবাগান এলাকায় ওই দলীয় কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, আরেক প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায়, দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহ, সিতাইয়ের দলীয় বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শুচিস্মিতা দত্ত শর্মা সহ প্রথম সারির প্রায় সব নেতৃত্বেই। এছাড়াও বিভিন্ন ব্লক, অঞ্চল ও বুথ স্তরের নেতা কর্মীরা সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। ফলে ব্যাপক ভীর জমে নব উন্মোচিত তৃণমূল জেলা সভাপতির ওই কার্যালয়ে।

Ad

দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ছিল কোচবিহার শহরের মা ভবানী মোড় এলাকার অফিসটি। কিন্তু অতি সম্প্রতি ওই দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা পার্টি অফিসের বোর্ড লাগিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির অফিস করা হয়। এরপর জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ। শহরের কোথায় বসে দলীয় কার্যকলাপ চালাবেন, তা নিয়ে ধন্দে পরেন তিনি।

তবে গোষ্ঠী কোন্দলের চক্রে পরার আশঙ্কায় তিনি প্রাক্তন কোন জেলা সভাপতির বাড়ির অফিস থেকে দলীয় কাজকর্ম করবেন না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এরপরেই এদিন শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোলবাগান এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে নিজের কার্যালয় খোলার ঘোষণা করেন। এদিন তার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বলে জানা গিয়েছে।

গিরীন বাবুর নিজের অফিসে বসে কাজ করার সিধান্তের জেরে এদিন প্রায় সব পক্ষের নেতৃত্বকেই সেখানে উপস্থিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতা কর্মী মনে করছেন। তাঁদের দাবি, এক সময় প্রাক্তন জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের হাত ধরে রাজনীতিতে উঠে আসলেও পরবর্তীতে তাঁর সাথে প্রাক্তন সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়ের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে পার্থ বাবু জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামাল দেওয়ার সময় ওই দুই নেতার বিরোধ কোচবিহারের রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। ওই দুই নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করে জেলা স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি দুটি ভাগ স্পষ্ট হয়ে যায়।

এই অবস্থায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ৯ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তৃণমূলকে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের পর গিরীন্দ্রনাথ বর্মণকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি গোষ্ঠী বিরোধ মেটাতেই নিজের জন্য নতুন কার্যালয় খোলায় সচেষ্ট হয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

বলাবাহুল্য, কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি থাকার সময় রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মা ভবানী চৌপথি তে একটি কার্যালয় তৈরি করেছিলেন। তার সভাপতিত্ব চলে যাওয়ার পর সেই কার্যালয় আট নাম্বার ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এরপর বিনয় কৃষ্ণ বর্মন জেলা সভাপতি থাকার সময় তিনি সেই কার্যালয় কয়েকবার ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু মাথা ভাঙ্গায় থাকার দরুন তিনি বেশিরভাগ সময় সেখানেই বসতেন।

পরবর্তীতে জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় নিজের বাড়িতেই কার্যালয় তৈরি করে নিয়েছিলেন। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে শুরু করে সাংবাদিক বৈঠক সবটাই সেই কার্যালয় হত। সুতরাং জেলা তৃনমূল কার্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা আগের সভাপতি না হয়তো সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি বলে হয়ে ওঠেনি। গিরিন বাবু জেলা সভাপতি হওয়ার পরে তিনি প্রথম প্রশ্ন তোলেন জেলা তৃনমূল কার্যালয়ের।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সপ্তাহে তিন দিন এই কার্যালয়ে তিনি থাকবেন। সেইসাথে জেলার স্থায়ী তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় নির্মাণ করার প্রচেষ্টা ও থাকবে। জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে শহরের মাঝা মাঝি হওয়ায় খুশি সকল স্তরের নেতা নেতৃত্বরা

আরও পড়ুন