Ad
কোচবিহার

চোখের জলের সাথে ভেসে গেছে প্রতিশ্রুতি, সন্তান আগলে এক মায়ের শেষ দরবার মুখ্যমন্ত্রী কে

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

প্রতিশ্রুতি ছিল তিন লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে, ছেলের পড়াশোনার জন্য আরও পাঁচ লক্ষ। সেইসাথে সরকারি চাকরি, কোচবিহার জেনকিনস স্কুল এর ছেলের ভর্তি, আরো আরো অনেক কিছু।

আর কয়েক ঘন্টা পরেই অভিশপ্ত সেই দিনের স্মৃতি ফিরে আসবে, আর সেই সাথে ফিরে আসবে এক বছরের হাজার হাজার প্রতিশ্রুতির অসফলতার কাহিনী। ঘটনাটি দুই হাজার কুড়ি সালের 25 শে নভেম্বর। ভোররাতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন কোচবিহার জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত। আর তার সাথেই অনাথ হয়ে পড়েন তার স্ত্রী পাপিয়া দত্ত বর্মন ও সন্তান প্রান্তিক দত্ত।

Ad

এক বছরে মানুষের দোরগোড়ায় ঘুরতে ঘুরতে আর চোখের জলের সাথে ভেসে গেছে প্রতিশ্রুতি। পাপিয়া দেবী বলেন জেলা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব সকলেই একযোগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাকে কিন্তু জুতার তলা ক্ষয় হয়ে গেলেও বিগত এক বছরে দেখা পাওয়া যায়নি কারো। দেখা পাওয়া যায়নি সেই সময়ের জেলা সভাপতি তথা বর্তমান উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় এর, দেখা পাওয়া যায়নি মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, এমনকি বর্তমান যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের ফোন করলে পরেও তারা ফোন তোলেন না। দলের জন্য এত কাজ করেও আজ দল ভুলে গেছে নরেন্দ্রকে। তাই এখন তার শেষ ভরসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শ্বশুরবাড়িতে আর থাকতে হচ্ছে না তাকে, অবহেলা অবমাননা বঞ্চনা সবকিছু মেনে নিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন তার বাপের বাড়ি কোচবিহার 11 নম্বর ওয়ার্ডের তাল্লীতলা এলাকায়। ছোট্ট একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তিনি। অতি কষ্টে বাবার পেনশনের উপরে ভরসা করে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, জীবিত কালে নরেন্দ্র মাথাভাঙ্গা সেচ দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক একটি চাকরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তৎকালীন জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই প্রতিশ্রুতি এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি করে দেওয়া হবে তাকে, বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য 5 লক্ষ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তৎকালীন জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিগত এক বছরে সেসব অতীতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামীর স্মৃতি এবং ছেলের হাত ধরে অতি কষ্টে বেঁচে আছে একসময়ের কোচবিহারের নেতৃত্বস্থানীয় প্রয়াত নরেন্দ্র চন্দ্র দত্তের পরিবার।

এদিন তিনি স্পষ্ট কথাই বলেন, দল থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সরকার থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। নিজের চাকরি এবং ছেলের ভর্তির জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সবাই দেখছি দেখব বলে যাচ্ছে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এভাবে আর কতদিন। সর্বশেষে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তার সাহায্যের প্রার্থনায়। ছেলের ভবিষ্যৎ থেকে শুরু করে আগামী জীবন তিনি যাতে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে কাটাতে পারেন সেই ব্যবস্থা একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন বলেই তার ভরসা। জেলা নেতা দের ওপর তার বিশেষ কোনো বিশ্বাস নেই বলেই জানান তিনি।
এই বিষয়ে বর্তমান জেলা তৃণমূল সভাপতি গিরীন্দ্র নাথ বর্মন এবং তৎকালীন সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন