মানা হল না প্রটোকল, কোচবিহার জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যপাল

কোচবিহার, ১২ নভেম্বরঃ আজ সকালে কোচবিহারে এসেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার আগেই তিনি কোচবিহার এয়ারপোর্টে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে গাড়ি করে সোজা চলে আসেন কোচবিহারের মনীষী ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তির কাছে।

সেখানে এসে পঞ্চানন বর্মার বেদীতে সস্ত্রীক মাল্যদান করেন তিনি।এরপর তিনি কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে চলে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। এরপর মদনমোহন ঠাকুরকে প্রণাম করেন তারা। আশীর্বাদ নেন।

অভিযোগ করেন, রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় নি। উপস্থিত ছিলেন না জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার। যা রাজনৈতিক ইঙ্গিত পূর্ণ বলে রাজ্যপাল টুইটে জানিয়েছেন। (the district administration at cooch behar @mamta official was in breach of protocol. there was no guard of honour wb police and dm and sp @home bengal and were absent. all indication of politicised working visible.)

পাশাপাশি মন্দির চত্বরে থাকা কালী মন্দির, মা ভবানী মন্দির সহ গোটা মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল। এরপর তিনি সোজা চলে যান কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ীতে। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান। দুপুরে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের একটি গোষ্ঠীর লোকেদের সঙ্গে তাঁর কিছুক্ষণ বৈঠক হয়। দুপুর ২টোয় তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল।

তাঁর সাথে সর্বক্ষণের জন্য কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিককে দেখা গেলেও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কোন কর্তাকে দেখা যায় নি। সার্কিট হাউজ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।সেখানেও এনিয়ে কোন কথা তুলে ধরেন নি। কিন্তু কোচবিহার ছাড়তেই টুইট করে ওই ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্যপাল।

রাজ্য সরকারের সাথে রাজ্যপাল জগদীশ ধনকরের সম্পর্ক প্রথম থেকেই ভালো নয়। বিভিন্ন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে থাকেন রাজ্যপাল। আর এই কারনেই তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করে থাকে রাজ্যপাল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে এভাবে রাজ্যের বিরোধিতা করে থাকে।

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় রাজ্যপাল অভিযোগ করে জানান, তিনি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে কথা বলার জন্য তাঁদের ডেকে ছিলেন কিন্তু কেউ আসেন নি। এই না আসার পিছনেও রাজনৈতিক কারন রয়েছে বলে রাজ্যপালের দাবী। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন। তাই তিনি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যা বর্তমান রাজ্য সরকারের পছন্দ হচ্ছে না।”

এরপর কোচবিহার থেকে ফিরে যান তিনি। কিন্তু ফিরে যেতেই কোচবিহার জেলার পুলিশ প্রশাসনের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এদিন টুইট করে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের রাজনৈতিক দলের তাবেদারী করার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল। এমনকি প্রশাসনের তরফে কোনও প্রটোকল মানা হয় নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রটোকল অনুযায়ী রাজ্যপালকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্যপালকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হল না। সেই সঙ্গে টুইটে কোচবিহারের জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।