কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রতিশ্রুতিমত শীতলকুচি কাণ্ডে নিহত পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করল রাজ্য সরকার

কোচবিহার, ১৩ মেঃ কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। শপথগ্রহণের পরদিনই জানিয়েছিল, ভোটের সময় শীতলকুচিতে মৃত পাঁচজনের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রতিশ্রুতির ছ’দিনের মধ্যেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য সরকার।

বুধবার কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে নিহত পরিবারগুলির হাতে হোমগার্ড চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। কোচবিহার ল্যান্সডাউন হলে জেলাশাসক পবন কাদিয়ান এবং জেলা পুলিশ সুপার কে কান্নানের উপস্থিতিতে পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এদিন জেলাশাসক জানান, আজ সকালেই জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিয়োগপত্র প্রদানের নির্দেশিকা এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তারা চাকরিতে যোগদান করবেন এবং সেইসাথে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করবেন। এদিন শহীদ পরিবারের চারজন সহ আনন্দ বর্মনের দাদা গোবিন্দ বর্মন নিয়োগ পত্র গ্রহণ করেন। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানালেন নিহত পরিবারের সদস্যরা।

ত ১০ এপ্রিল কোচবিহারে ভোটের দিন শীতলকুচি বিধানসভা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রান হারিয়েছিলেন চার যুবক। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এক বুথে মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মণ নামে আর এক যুবকের। তাদের পরিবারের সকলকেই আরথিক সাহায্য ও একটি করে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও আনন্দ বর্মণকে নিজের দলীয় কর্মী বলে দাবি করে ‘গুলি করে খুনের’ অভিযোগে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলে বর্মন পরিবার এবং জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

দিন কয়েক পরে জোড়পাটকিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দ-সহ জোড়পাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃতদের পরিবারকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি দফতরে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়ে ছেলের খুনের জন্য তৃণমূলকে দুষে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চাকরি নেবেন না বলে জানান আনন্দর মা বাসন্তী বর্মন। কিন্তু শুক্রবার ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যরা কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই মাসখানেকের মাথায় কার্যত সুর বদলালেন সন্তানহারা সেই মা।

আনন্দ বর্মনের মা বাসন্তী বর্মন এদিন বলেন, “আমরা পুরনো কোনও কথা ধরে রাখতে চাইছি না। মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিচ্ছেন। সেই চাকরি আমরা নেব। তাঁর দেওয়া অর্থসাহায্যও গ্রহণ করব।” এর দিন কয়েকের মধ্যেই ওই পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।