শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে চলল গুলি, ভোট বন্ধের নির্দেশ কমিশনের

কোচবিহারঃ ভোট চতুর্থীতে কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথের ভোটগ্রহণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই সঙ্গে বিকাল পাঁচটার মধ্যে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সকালে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট নন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা।

বঙ্গে প্রথম তিন দফায় যেভাবে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল, তাতে যে ভোট চতুর্থীতে বড় ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গের ভোট চিত্র বলছে, হিংসার রাহুমুক্তি থেকে মুক্ত হতে পারেনি বঙ্গের ভোট। তবে এদিন কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনা সব অশান্তিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের ‘নির্বিচারে’ গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েছেন চার তৃণমূল কর্মী।

সকালেই ‘ট্রিগার হ্যাপি’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালানোর ঘটনাকে খুল্লামখুল্লাভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি যুক্তি দাঁড় করিয়েছিলেন, ‘আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।’ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও পাঠানো রিপোর্টে সেই কথাই উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বিবেক দুবের বিশেষ রিপোর্টে সন্তুষ্ট হননি নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। অবিলম্বে শীতলকুচির যে বুথে ওই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তাঁরা। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও তলব করেন। কেন সরাসরি বুকে গুলি চালানো হল, কেন উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করানো গেল না, তা নিয়েও নির্বিচারে গুলি চালানোর হোতা সিআইএসএফের পদস্থ আধিকারিকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যাও তলব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পরেই শীতলকুচির ১২৫ নম্বর বুথে কবে পুনর্নির্বাচন হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’