২১ শে জুলাই শহীদ দিবস পালন ঘিরে কোচবিহারে প্রকাশ্যে পার্থ-রবির গোষ্ঠী কোন্দল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহারঃ ২১ শে জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষ ঘিরে প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। ২১ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে কোচবিহার জেলায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের মধ্যে কোন্দল চরমে ওঠে বুধবার সকালে।

একদিকে যেমন কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সদর কার্যালয়ে শহীদ দিবস পালন করলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও তার অনুগামীরা, অপরপক্ষে জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় বাড়ির সামনে শহীদ দিবস পালিত হল এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে তার অনুগামীরা। তবে কোন্দল আরো চরমে ওঠে যখন বুধবার সকালে তৃণমূল জেলা সদর কার্যালয়ের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুগামীরা মঞ্চ তৈরি করে শহীদ বেদী প্রস্তুত করে রাখেন, সেই সময় সকাল ৮.৩০ মিঃ নাগাদ আচমকাই কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ এবং শহর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নিরঞ্জন দত্ত সহ পার্থ প্রতিম রায়ের অনুগামীরা মঞ্চের পাশেই আরো একটি পতাকা উত্তোলন করে চলে যায়।

কোচবিহার জেলা তৃনমূল সদর কার্যালয়ে সামনে সকাল দশটায় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ বেদীতে মাল্যদান কর্মসূচী নির্দিষ্ট ছিল এরই মাঝে হঠাৎ করেই জেলা সভাপতি তার অনুগামীদের নিয়ে এসে পতাকা উত্তোলন চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কোন্দল চরমে উঠে। পার্থ প্রতিম রায় চলে যাবার পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুগামীরা পার্থ প্রতিম রায়ের তোলা পতাকা সেখান থেকে সরিয়ে ফেলেন। ফলে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, যার যেরকম স্বভাব সে এই ধরণেরই কাজ করবে। ১৯৯৩ সালে সেই দিন সেই আন্দোলনের সময় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই আজ আমার সাথে উপস্থিত আছেন তারা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন।

যদিও এই প্রসঙ্গে পার্থ প্রতিম রায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, সকালে নামাজ পড়ার পর জেলা সভাপতির ফোন আসে এবং সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী তারা জেলা সদর কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কে কোথায় কখন কি করছে তা তারা জানা নেই। ফলে স্বভাবতই কোচবিহারে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ শহীদ দিবসে প্রকাশ্যে এলো।